ময়মনসিংহের ভালুকার সিডস্টোর-সখিপুর সড়কে নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় বর্ষার পানিতে সড়কের অনেকাংশই ভেসে গেছে। এ ছাড়া গ্যাস সংযোগ লাইন স্থাপনে খোঁড়াখুঁড়িতে লাউতি সেতু ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে সড়কটি দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশল অফিস সূত্র জানায়, ময়মনসিংহের ভালুকা ও টাঙ্গাইলের সখিপুর উপজেলার সংযোগ স্থাপনকারী গুরুত্বপূর্ণ সিডস্টোর-সখিপুর আঞ্চলিক সড়কটি দীর্ঘদিন বেহাল থাকার পর গত বছরের অক্টোবরে রাফিয়া কনস্ট্রাকশনকে কার্যাদেশ দেয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর। বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের (আইডিএ) অর্থায়নে সড়কের নির্মাণব্যয় ধরা হয় ২৪ কোটি ৯৫ লাখ ৩৩ হাজার ২৩৩ টাকা। দেড় বছরে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও গেল এক বছরে মাত্র ৭ থেকে ৮ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে।
সড়কের অসম্পূর্ণ কাজ বন্ধ থাকা ও শিল্প-কারখানায় গ্যাস সংযোগ নেয়ার কাজ চলার কারণে সড়কটি দিয়ে যানচলাচল বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। তা ছাড়া সড়কের লাউতি সেতুটি বর্তমানে চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির সাথে কথা বলে জানা যায়, এক যুগ ধরে জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটি অকেজো হয়ে পড়ে আছে। সীমাহীন দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে তাদের। এত দিন পর কাজ শুরু করেও সামান্য করে আবার চার মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। এই সড়কে জনদুর্ভোগ সৃষ্টির জন্য এলজিইডির কিছু অসাধু কর্মকর্তার দুর্নীতি ও অনিয়মকে দায়ী করছেন তারা।
সড়কে নির্মাণকাজের সাইড ইঞ্জিনিয়ার শিমুল জানান, তাদের মালিক একটি মামলায় জেলহাজতে থাকার কারণে চার মাস ধরে কাজটি বন্ধ রয়েছে। ইতোমধ্যে ২৫ থেকে ৩০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে এবং এ মাস (সেপ্টেম্বর) থেকে আবার কাজ শুরু করা হবে।
তদারকি কর্মকর্তা ভালুকা প্রকৌশল অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী ইন্দু ভূষণ বিশ^াস জানান, ঠিকাদার জেলে থাকার কারণে কাজ বন্ধ রয়েছে। তবে আগামী মাস থেকে আবার কাজ শুরু করবে বলে ঠিকাদারের প্রতিনিধি তাকে জানিয়েছেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, ৭ থেকে ৮ ভাগ কাজ হয়েছিল। যা বর্ষার কারণে ভেসে গেছে। আবারো নতুন করে ওই কাজ করে দিতে হবে ঠিকাদারকে।
ভালুকা উপজেলা প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম জানান, ঠিকাদার একটি মামলায় জেলে থাকার কারণে চার মাস ধরে কাজটি বন্ধ রয়েছে।