আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে নীলফারী জেলার সৈয়দপুরের মেয়র প্রার্থী হতে চায় পৌর যুবলীগের আহ্বায়ক মোস্তফা ফিরোজ। একান্ত সাক্ষাৎকারে এ প্রতিবেদককে প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছে ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি বলেন, আমরা পারিবারিকভাবে দীর্ঘদিন থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। আমার বাবা ছিলেন একজন মুজিবভক্ত মানুষ। আমরা তাই স্বাধীনতার মহান স্থপতি, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে ছোট বেলা থেকেই অনুপ্রাণিত ও নিবেদিত। আমরা সব ভাইয়েরা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতৃত্ব দিচ্ছি। বড় ভাই মো: মোজাম্মেল হক পর পর ৩ বার পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। ইতোপূর্বে তিনি পৌর মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। সেসময় সৈয়দপুর বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। তারপরও তিনি নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করে উর্দুভাষীদের আওয়ামী রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত করতে সক্ষম হন। ফলে বিপুল সংখ্যক ভোট পেয়েছিলেন। কিন্তু দলের একটি অংশের প্রতারণার কারণে বিজয়ী হতে পারেননি। তারপরও তিনি দল বিমুখ হননি। বরং পরবর্তীতে তিনি নবউদ্যোমে নির্বাচনের সময়ের অভিজ্ঞতা কাজে লাগান দল গোছানোর।
উর্দুভাষী অধ্যুষিত সৈয়দপুরের এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে আওয়ামী লীগ সম্পর্কে ভুল ধারণা দিয়ে সুদীর্ঘ সময় ধরে নিজেদের একক ভোট ব্যাংক হিসাবে ব্যবহার করেছে জাতীয় পার্টি ও বিএনপি। সেই ভুল ভাঙ্গানোর পাশাপাশি নেতৃত্বের গুণাবলী সমৃদ্ধ উদ্যোমী ও সম্ভাবনাময় উর্দুভাষী তরুণ-যুবকদের দলের পতাকাতলে সমবেত করেন। ফলে পরবর্তীতে বর্তমান উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো: আখতার হোসেন বাদলকে মেয়র এবং কর্নেল (অব:) মারুফ সাকলানকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করতে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে সফল হয়েছেন।
সাবেক ছাত্র নেতা মোস্তফা ফিরোজ বলেন, এবার যদি বড় ভাই নির্বাচন না করেন তা হলে আমি মেয়র প্রার্থী হবো। কারণ বড় ভাইয়ের মতোই বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন আমারও। শৈশব-কৈশোর থেকেই বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাথে জড়িত। স্বাধীনতা পরবর্তী সৈয়দপুর ডিগ্রি মহাবিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ফুল প্যানেলে বিজয়ী প্রথম পরিষদের ভিপি ছিলাম। পরবর্তীতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নকালে ছাত্রলীগের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভুমিকা রেখেছি। শিক্ষাজীবন শেষে কর্ম জীবনে এসে পারিবারিক ব্যবসার পাশাপাশি নিজস্ব ব্যবসায় এখন প্রতিষ্ঠিত। সেইসাথে চলছে রাজনৈতিক ও সামাজিক কার্যক্রম।
ব্যক্তিগত উদ্যোগে ও অর্থায়নে সকল দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়ন করার সাথে সাথে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা করে যাচ্ছি যথাসাধ্য। কারণ রাজনীতির মূল উদ্দেশ্যই হলো জনগণের কল্যাণে কাজ করা। সেই লক্ষ্যকে ধারণ করেই রাজনীতি করি। সে কারণে সবসময় সাহায্যপ্রার্থী যেই হোক কখনোই কাউকে নিরাশ করিনি। নিজ এলাকার বাইরেও এ সহায়তার হাত বাড়িয়েছি। ফলে সৈয়দপুর উপজেলাসহ আশেপাশের এলাকাতেও পরিচিতি ছড়িয়ে পড়েছে। সম্পৃক্ততা সৃষ্টি হয়েছে বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক, ক্রীড়া ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও সংগঠনের সাথে। এই সক্ষমতা আর সংগঠন পরিচালনার দক্ষতার ধারাবাহিকতায় তাই পৌর যুবলীগের আহ্বায়ক হওয়ার সুযোগও এসেছে।
কিন্তু ব্যাক্তি উদ্যোগে মানুষের যে কল্যাণ করা সম্ভব হয়, তা খুবই সীমিত আকারে। সর্বাত্মকভাবে সমাজসেবা করতে চাইলে জনপ্রতিনিধি হওয়ার বিকল্প নেই। বিশেষ করে সরকারি সহযোগিতা তৃণমূলের সর্বস্তরের মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার মাধ্যমে সমাজের সামগ্রিক কল্যাণ সাধনের ক্ষেত্রে। তাই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনপ্রতিনিধি হওয়ার প্রত্যাশা নিয়েই রাজনীতি করা।
দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, স্থানীয়ভাবে দলীয় ফোরামে আমার প্রার্থীতার বিষয়টি উত্থাপন করবো। নেতৃবৃন্দের মতামতের ভিত্তিতেই দলের কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে তা উপস্থাপন করা হবে। আমি আশাবাদী যে নেতাকর্মীরা সম্মিলিতভাবেই আমাকে সমর্থন জানাবে। কারণ মূলদলসহ সব সহযোগী ও অঙ্গসংগঠন সমূহের সকল নেতাকর্মীর সাথেই আমার হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক। কারো সাথেই কোন প্রকার বৈরিতা নেই। এমনকি দলমত নির্বিশেষে উপজেলা ও পৌরসভার সকল মানুষের সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক সচরাচরই বিদ্যমান। যা অন্য অনেকের তুলনায় অনেকাংশে বেশিই বলে আমার বিশ্বাস। উর্দুভাষী-বাঙালি সবাই তা একবাক্যে স্বীকার করবেন।
তাই মনে করি একইভাবে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কারিগর, বঙ্গবন্ধু কন্যা ও প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাও আমাকে মনোনয়ন দিবেন নৌকার মাঝি হিসেবে। কারণ তিনি দল ও দেশের সকল ক্ষেত্রে উদীয়মান ও তরুণ নেতৃত্বকে প্রাধান্য দিয়ে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর উপযুক্ত করে গড়ে তোলায় উদ্যোগ নিয়েছেন। তার এ প্রচেষ্টা ইতোমধ্যে মন্ত্রী পরিষদসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন দেয়ার ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে সফল হয়েছে। তিনি যদি আমাকে মনোনয়ন দেন তাহলে আওয়ামী লীগ মেয়র প্রার্থীর বিজয় সুনিশ্চিত। কারণ ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জনসম্পৃক্ততা, দলীয় নেতাকর্মীদের সমন্বিত প্রয়াস এবং উর্দুভাষী-বাঙালি উভয় জনগোষ্ঠীর সাথে আত্মীয়তার সম্পর্কের সূত্র ধরে ভোট বিপ্লব ঘটানো সম্ভব হবে।
তাই বিএনপির দুর্গখ্যাত সৈয়দপুর পৌরসভার মেয়র পদটি জনগণের ভোটের মাধ্যমে অধিগ্রহণ করে দেশনেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিকল্পনা মাফিক সঠিক জনসেবা ও উন্নয়ন দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে প্রার্থী হতে চাই। সৈয়দপুরবাসীকে দিতে চাই আওয়ামী লীগ সরকারের সাফল্যের সর্বোচ্চ প্রাপ্তি। নিশ্চিত করতে চাই আগামী প্রজন্মের নিরাপদ ও মানসম্পন্ন ভবিষ্যৎ। এ শহরকে গড়ে তুলতে চাই প্রকৃত অর্থে উন্নত, আধুনিক ও শান্তি সমৃদ্ধির আবাসস্থল হিসাবে।





