ময়মনসিংহের ভালুকায় একদিকে বেদখলীয় প্রায় ২০ কোটি টাকা মূল্যের বনভূমি উদ্ধার করে চারা রোপণ করা হচ্ছে আর অপর দিকে কয়েক কোটি টাকা মূল্যের বনভূমি দখলে নিয়ে কালোজাল দিয়ে ঢেকে নির্মাণ করা হচ্ছে সীমানা প্রাচীর। ঘটনা দু’টি উপজেলার ধামশুর মৌজার আখালিয়া ও মামারিশপুর গ্রামের। দখলকৃত জমিতে প্রাচীর নির্মাণের খরর পেয়ে বনবিভাগের লোকজন নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন বলে স্থানীয় বনবিভাগ জানায়।
বনবিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভালুকা রেঞ্জের ধামশুর মৌজার ১২০৭ নম্বর দাগে দীর্ঘদিন আগে আখালিয়া গ্রামে ২০ কোটি টাকা মূল্যের ৭ একর ৪৯ শতাংশ বনভূমি ডেল্টা সিরামিক্স লিমিটেড দখল করে। পরে বনবিভাগ মামলা করলে উচ্চ আদালত বনবিভাগের পক্ষে রায় দেন। পরে ১২ সেপ্টেম্বর শনিবার ময়মনসিংহ (দক্ষিণ) সহকারী বন সংরক্ষক আবু ইউসুফের নেতৃত্বে দিনব্যাপী উদ্ধার হওয়া বনভূমিতে এক হাজার ৭০০ আকাশমনি গাছের চারা রোপণ করে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভালুকা রেঞ্জ কর্মকর্তা মোজাম্মেল হোসেন, হবিরবাড়ি বিট কর্মকর্তা দেওয়ান আলী, কাদিগড় বিট কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম, মল্লিকবাড়ি বিট কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান ও হাজির বাজার বন ক্যাম্পের ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ।
অপর দিকে খোঁজ নিয়ে ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার মামারিশপুর মধ্যপাড়ায় ধামশুর মৌজার ২৮৬, ২৮৭, ৩০৪ ও ৩০৫ নম্বর দাগে বনবিভাগ ও খাস খতিয়ানভুক্ত প্রায় আড়াই কোটি টাকা মূল্যের জমি দখলে নিয়ে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করছেন ঢাকার জনৈক রাবিয়া মাকসুদ নামে এক প্রভাবশালী। জানা গেছে, গোলাম মোল্লা বাবু নামে এক ব্যক্তির নেতৃত্বে কালো রঙের জাল দিয়ে ঢেকে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করছেন।
ভালুকা রেঞ্জ কর্মকর্তা মোজাম্মেল হোসেন ও স্থানীয় হাজিরবাজার বন ক্যাম্পের ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বনভূমি দখলকারী ডেল্টা সিরামিক্সের বিরুদ্ধে মামলা করার পর বনবিভাগের পক্ষে উচ্চ আদালতের রায় আসায় ওই জমিতে গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। অপর দিকে মামারিশপুর গ্রামে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের ব্যাপারে দুই কর্মকর্তা বলেন, নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার জন্য গোলাম মোল্লা বাবুকে বলা হয়েছে। নকশা ও কাগজপত্র নিয়ে সরেজমিন মাপামাপির পর জমিতে যদি বনবিভাগের দাবি না থাকে তবে কাজ করতে কোনো বাধা নেই।