ময়মনসিংহের ভালুকায় বনের জমিতে অবৈধভাবে নির্মাণ করা বহুতল ভবনটি কান্দা জমি দেখিয়ে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে প্রায় তিন কোটি টাকার জমি ৫০ লাখ টাকা মূল্য উল্লেখ করে রেজিস্ট্রি করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর উঠেছে সাবরেজিস্ট্রার বোরহান উদ্দিন সরকারের বিরুদ্ধে। জমিটি উপজেলার শিল্পাঞ্চল হবিরবাড়ি ইউনিয়নের সিডস্টোর বাজার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পূর্বপাশে হবিরবাড়ি মৌজার ১৮৫ নম্বর দাগে অবস্থিত।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার হবিরবাড়ি মৌজায় বনবিজ্ঞপ্তিত ১৮৫ নম্বর দাগে সাড়ে তিন শতাংশ জমির ওপর অবৈধভাবে নির্মাণ করা কয়েক কোটি টাকা মূল্যের বহুতল ভবনটি ৫০ লাখ টাকা উল্লেখ করে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। গত ১৩ অক্টোবর সকালে ভিজিট কমিশনের মাধ্যমে দলিল দাতা হবিরবাড়ি হবিরবাড়ি গ্রামের মৃত মুঞ্জুরুল হকের স্ত্রী মুক্তাজা খাতুনের কাছ থেকে ছয় হাজার ৫০০ স্কয়ার ফিটের বাসাটি এলাকার মৃত হোছেন আলী দফতরির ছেলে সিরাজ উদ্দিন ৬৬৫৩ নম্বর দলিল মূলে কিনে নেন। বনের জমিতে অবৈধভাবে সাড়ে তিন শতাংশ জমির ওপর নির্মাণ করা চার কোটি টাকা মূল্যের বহুতল ভবনটি কান্দা জমি দেখিয়ে বনবিভাগ ও ভালুকা সাবরেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক সমিতির কোষাধ্যক্ষ জয়নাল আবেদীনের যোগসাজশে সাবরেজিস্ট্রার বোরহান উদ্দিন সরকারকে মোটা অঙ্কের টাকা সুবিধা দিয়ে জালজালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে প্রায় ১০ লাখ টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে (প্রতি স্কয়ার ফিট এক হাজার ৫০০ টাকা হিসেবে) রেজিস্ট্রি করে নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে জমির দলিল গ্রহিতা সিরাজ উদ্দিন বলেন, আমি কাগজপত্র দেখে জমি কিনেছি। কিন্তু পাঁচতলা ভবনের স্থলে দলিলে কেনো টিনশেড উল্লেখ করা হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কোনো উত্তর দেননি।
দলিল লেখক জয়নাল আবেদীন বলেন, দলিল গ্রহিতা আমার কাছে জমি রেজিস্ট্রি করতে এলে আমি দলিলটি সম্পাদন করে সাবরেজিস্ট্রার স্যারের কাছে উপস্থাপন করলে তিনি সব কাগজপত্র দেখে জমি রেজিস্ট্রি করে দেন। এ ব্যাপারে দলিল লেখক জয়নাল আবেদীন সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ করে বলেন, দলিল গ্রহীতা সিরাজুল ইসলাম আমার আত্মীয়। তা ছাড়া কাগজপত্র অনুযায়ীই জমি রেজিস্ট্রি করা হয়েছে।
হবিরবাড়ি ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা জীবন কুমার বিশ্বাস বলেন, হবিরবাড়ি মৌজায় ১৮৫ নম্বর দাগে ৩০৪৩ নম্বর খারিজা খতিয়ানটি ২০০৮-০৯ সালে দেখানো হয়েছে। তখন আমি এখানে কর্মরত ছিলাম না। তবে নামজারিটি সন্দেহজনক মনে হচ্ছে।
ভালুকার সাবরেজিস্ট্রার বোরহান উদ্দিন সরকার জমি রেজিস্ট্রির কথা স্বীকার করে বলেন, দলিল লেখকের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে জমি রেজিস্ট্রি করেছি। এখানে বহুতল ভবন রয়েছে কিনা তা আমি জানি না। বহুতল ভবন থাকার পরও কান্দা জমি দেখিয়ে রেজিস্ট্রির বিষয়টি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।