বগুড়ার শাজাহানপুরের ভাদাই নদীর প্রায় এক কিলোমিটার এলাকায় মাটির বাঁধ দিয়ে পানিপ্রবাহ বন্ধ করে রাতের বেলা সেচপাম্পের মাধ্যমে নদীর পানি শুকিয়ে মাছ নিধন করছে প্রভাবশালী মহল। এর ফলে আগামী শুষ্ক মৌসুমে ওই এলাকায় বোরো চাষ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসী জানান, ভাদাই নদীর পানি দিয়ে দুইপাড়ের জমিতে চাষাবাদ করা হয়। শুষ্ক মৌসুমে এমনিতেই পানির স্তর নিচে নেমে যায়, তার ওপর নদীর পানি শুকিয়ে ফেলায় জমিতে ফসল আবাদ করা কঠিন হয়ে পড়বে। তাই শুষ্ক মৌসুমে এই নদীর পানির চাহিদা ব্যাপক। গোহাইল ভাদাই নদীর ব্রিজ এলাকা থেকে উত্তর দিকে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে এ মাছ নিধন চলছে।
কৃষকরা জানান, এলাকায় পানির চাহিদা ও চাষাবাদের প্রতি গুরুত্ব দিয়ে দুই বছর আগে রাজশাহী বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কয়েক কোটি টাকা খরচ করে ভাদাই নদী সংস্কার ও নদীতে পানি সংরক্ষণের জন্য ব্যারাজ নির্মাণ করা হয়। ফলে ফসল চাষাবাদে পানির চাহিদা পূরণ হয় এবং জমিগুলো সর্বদা উর্বর থাকায় ফসলাদিও ভালো হয়। কিন্তু একদল সঙ্ঘবদ্ধ চক্র ওই ব্যারাজের মাঝখানে দুই স্থানে পাকা দেয়াল ভেঙে নিচু করে দেয়। ফলে নদীর বেশির ভাগ পানিই নিষ্কাশন হয়ে যায়। এরপর শুষ্ক মৌসুম আসার আগেই সঙ্ঘবদ্ধ চক্র নদীর পানি মেশিন দিয়ে সেচে ফেলে দিয়ে সব প্রজাতির মাছ শিকার করে।
গোহাইল গ্রামের আবজাল মিয়া জানান, এ গ্রামের ও পার্শ্ববর্তী লটাগাড়ি গ্রামের সঙ্ঘবদ্ধ চক্রটি মাছ ধরার যাবতীয় সুবিধা দেয়ার অঙ্গীকার দিয়ে অর্ধলক্ষাধিক টাকার বিনিময়ে মাছ ব্যবসায়ীদের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়। মাছ ব্যবসায়ীরা তখন এই চক্রের সহায়তায় রাতে নদীর পানি মেশিন দিয়ে সেচে সব প্রজাতীর মাছ শিকার করে।
এমনকি কাঁদা-মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা দেশী ভাদাই মাছ, গচি মাছ, শিং মাছ, শোল মাছ, টাকি মাছ ও টেংড়া মাছও ধরা হয়। নির্বিচারে মৎস্য শিকারের ফলে মারা পড়ছে মা মাছ। ফলে ব্যাহত হচ্ছে মাছের স্বাভাবিক প্রজনন। আর বংশবিস্তার করতে না পারায় বিলুপ্ত হচ্ছে অনেক প্রজাতির দেশী মাছ। শুধু তাই নয়, এভাবে নদীর পানি শুকিয়ে ফেলায় এলাকায় চাষাবাদের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফলে প্রশাাসন এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে তারা অভিযোগ করেন।
উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, বাংলা কার্তিক-অগ্রহায়ণ মাস থেকে শুরু করে ফাল্গুন-চৈত্র পর্যন্ত নদী-জলাশয় শুকিয়ে যায়। তাই সরকারি উদ্যোগে এ সময়টাতে মাছের জন্য একটি অভয়াশ্রম তৈরি করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। এ ছাড়া মৎস্য আইন এবং নদী ও জলাশয় সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী এসব দণ্ডণীয় অপরাধ।
এ বিষয়ে স্থানীয় গোহাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী আতোয়ার তালুকদার ফজু জানান, ভাদাই নদীর পানি দিয়ে এ এলাকার জমিগুলো উর্বরতা পায় ও ফসল হয়। কিন্তু একদল দুর্বৃত্তের কাছে বিষয়টি জিম্মি হয়ে পড়েছে। এদেরকে আইনের আওতায় আনা একান্ত প্রয়োজন।
এ সম্পর্কে শাজাহানপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশিক খান বলেন, বিষয়টি জানা নেই। তবে সরেজমিন তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।





