নরসিংদীর রায়পুরায় পারিবারিক কলহের জেরে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শেমা আক্তার (১৭) নামে এক কলেজছাত্রী আত্মহত্যা করেছেন।
শেমা আমিরগঞ্জ ইউনিয়নের হাসনাবাদ পশ্চিমপাড়া গ্রামের কাজল ভূঁইয়ার মেয়ে। তিনি শিবপুর আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্রী।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যায় তিনি বাড়ির বাথরুমে যান। পরে দীর্ঘ সময় পার হলে দরজা ভেঙে শেমার লাশ দেখতে পায় পরিবারের সদস্যরা। রাতে পুলিশ এসে নিহতের লাশ সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।
নিহতের মা রীনা বেগম ও মামা দৌলত জানান, নিহতের মা তার বাবার প্রথম স্ত্রী। তার দুই ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে শেমা দ্বিতীয় ছিল। আর দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী ঝর্ণা বেগমের তিন ছেলে থাকা সত্ত্বেও বর্তমানে ঝর্ণা বেগম আবারো গর্ভবতী। দ্বিতীয় স্ত্রী আসার পর পরই শেমার বাবা কাজল ভূঁইয়া ঠিকমতো তাদের ভরণ-পোষণ দেন না।
এ অবস্থায় শেমার দুই ভাইকে রাজমিস্ত্রীর কাজে দিয়ে ও মামা দৌলতের সহযোগিতায় কোনো রকমে সংসার চলছিল। এ দিকে শেমার বিয়ের সমন্ধ এলেও তার বাবা কোনো টাকা পয়সা দিতে রাজি হননি। টাকা না দিয়ে তিনি বলেন, শেমার মামার কাছ থেকে টাকা এনে তাকে বিয়ে দিতে।
সাম্প্রতি টাকার অভাবে কলেজে ভর্তি হতে না পারায় ও পারিবারিক বিভিন্ন সমস্যা সহ্য করতে না পেরে শনিবার রাতে বাথরুমে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন শেমা। এ ঘটনায় শেমার মা ও মামা প্রশাসনের কাছে এর সঠিক বিচার দাবি করেছেন।
এ ব্যাপারে রায়পুরা থানার সেকেন্ড অফিসার দেব দুলাল জানান, নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় রায়পুরা থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে।









