সোমবার রাত ১২টা থেকে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়ায় ফেরি ও লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে যায় ঘন কুয়াশার কারণে। দীর্ঘ সময় ফেরি পারপার বন্ধ থাকায় অনেক যাত্রী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ১০০টাক জনপ্রতি ভাড়া দিয়ে ট্রলারে নদী পার হয়েছে।

এ রুটের শাহপরান ফেরির মাষ্টার শাহাদত উল্লাহ জানান, কুয়াশার মাত্রা এতোটাই বেশি ছিলো যে কাছের দৃষ্টি সীমানার বস্তুটিও দেখা সম্ভব ছিলো না। যে কারনে দুর্ঘটনা চলাচল ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে । কুয়াশার মাত্রা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আসার পর ফেরি চলাচল পুনরায় চালু করা হবে। পদ্মা পারে কুয়াশায় আটকা পরে যাত্রীরা চরম দূর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

এদিকে ঘন কুয়াশার মধ্যে অনেকে জন প্রতি ১০০টাকায় ঝুকি নিয়ে ট্যলারে নদী পার হচ্ছেন। ঝুকি নিয়ে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরি ঘাট থেকে ইঞ্জিন চালিত ট্রলারে যাত্রীরা নদী পার হলেও নজরদারি নাই প্রশাসন বা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের।

ঘন কুয়াশায় ফেরি চলাচল বন্ধ থাকার অজুহাতে প্রশাসনের চোখ ফাকি দিয়ে ট্রলারে যাত্রী পার করছেন ট্রলার চালকরা।

মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে দৌলতদিয়া ৫ নং ফেরি ঘাটের পন্টুন থেকে যাত্রী বোঝাই করে পর পর দুইটি ট্রলার পাটুরিয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যেতে দেখাগেছে। এ সময় ঘাট এলাকার আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় চোখে পড়েনি আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কোন সদস্যদের এবং কোন বাঁধা বিপত্তি ছাড়াই যাত্রীদের ডেকে ওঠানো হচ্ছে ট্রলারে। সেই সাথে মোটর সাইকেল পার করতেও দেখাগেছে।

জানাগেছে, ঘন কুয়াশার কারণে মধ্যরাত থেকে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। যে কারণে দক্ষিণ অঞ্চল থেকে আসা যানবাহনের দীর্ঘ সিরিয়াল তৈরি হয় দৌলতদিয়া প্রান্তে। দীর্ঘ সময় ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় নদী পারাপার হতে না পেরে, ঝুকি নিয়ে ট্রলারে করে নদী পার হচ্ছেন। এ সময় জনপ্রততি ১শ টাকা ভাড়া গুনতে হচ্ছে যাত্রীদের। এদিকে কুয়াশার ঘনত্ব কমে গেলে সকাল ১০ টা থেকে পযনরায় ফেরি চলাচল শুরু হয়।

দৌলতদিয়া ঘাট নৌ পুলিশ ফাড়ির ওসি মোঃ মুন্নাফ জানান, যাত্রীদের নিরাপত্তা ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় তারা সার্বক্ষনিক ঘাট এলাকাসহ নদীতে টহল দেন। মাঝে মধ্যে তাদের চোখ ফাকি দিয়ে ট্রালারে যাত্রী পারাপার করা হয় বলে শুনেছেন। কিন্তু ঝুকি নিয়ে ট্রলারে যেন যাত্রী পারাপার করা না হয়, সে বিষয়ে তাদের সজাগ দৃষ্টি রয়েছে।

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম জানান, দৌলতদিয়া থেকে ট্রলারে যাত্রী পারাপারের কোন সুযোগ নাই। তারপরও খোজ খবর নিয়ে দেখছেন বলে জানান।