করোনা মহামারীর ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে অর্থনীতির ওপর।
পরিবারের আর্থিক দৈন্যতার কারণে দিনে দিনে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে অংশগ্রহণ বাড়ছে পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার সাতটি ইউনিয়নসহ চরাঞ্চলের অসহায় হতদরিদ্র পরিবারের শিশু-কিশোরদের ।
যে সময়টা শিক্ষার জন্য বিদ্যালয় কিংবা মক্তবে কাটানোর কথা সেই সময়টা নানান ঝুঁকিপূর্ণ কাজে অংশ নিয়ে পরিবারের হাল ধরতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। স্থানীয় সূত্র জানায়, মহামারী করোনাভাইরাসের ফলে উপজেলায় প্রতিনিয়ত শিশু শ্রম ও বাল্যবিবাহের সংখ্যাও দিনে দিনে বাড়ছে। নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যে রয়েছে শিশু-কিশোরদের স্বাভাবিক বেড়ে ওঠার গল্পও। তাতে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে শিশু-কিশোরদের আগামীর ভবিষ্যৎ।
সরেজমিন জানা যায়, করোনার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকা, খেলাধুলায় অংশগ্রহণ না করা এবং পরিবারের আর্থিক সঙ্কটে স্থানীয় শিশু-কিশোররা শ্রমের দিকে ঝুঁকছে। উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের দক্ষিণদাসপাড়া গ্রামের শিশু শ্রমিক রায়হান (১৪) দিনে ৭ থেকে ১০ ঘণ্টা শ্রম বিক্রি করে। গছানী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সে নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। এ বয়সে কেন কাজ করছে জানতে চাইলে সে জানায়, পরিবারের আর্থিক টানাপড়েনে সে কাজে নামতে বাধ্য হয়েছে। রায়হানের মতো আরো অসংখ্য শিশু শ্রমিক ক্ষুদ্র ও মাঝারি কারখানার পাশাপাশি ক্ষেত্রে-খামারে শ্রম বিক্রি করছে।
উপজেলার সদর রোডে ওয়ার্কশপের দোকানে কাজ করেন শামিম (১০) নামে এক শিশু শ্রমিক। তার কাছে জানতে চাইলে সে জানায়, ‘ঘরে থাইক্কা যে আমরা ল্যাহা পড়া করমু হেইয়া আমাগো কপালে নাই’। ‘আমাগো ঘরে ভাত নাই’। ‘তাই বদলা দিয়ে ৩০০ থেকে সাড়ে ৩০০ টাকা পাই তা দিয়ে ঘরে চাউল কিনি’। জেলে পল্লীখ্যাত বাঁশবাড়িয়ার সোহাগ (৯), কাটাখালীর মাসুম (১০) ও সৈয়দ জাফর গ্রামের হানিফের (১১) মতো শিশুরা মাছ শিকারে যাচ্ছে নদীতে। তাদের স্বাস্থ্য রক্ষা কিংবা জীবন রক্ষার কোনো ব্যবস্থাই নেই। দশমিনা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া ফেরদৌস জানান, মহামারীর সময় স্কুল বন্ধ দেয়া হয়েছে ঘরে থাকার জন্য। শিশু-কিশোরদের শ্রম ও বাল্যবিবাহের অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
দশমিনায় শিশুশ্রম
হালকা হাতে ভারী কাজ
করোনা মহামারীর ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে অর্থনীতির ওপর।পরিবারের আর্থিক দৈন্যতার কারণে দিনে দিনে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে অংশগ্রহণ বাড়ছে পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার সাতটি ইউনিয়নসহ চরাঞ্চলের অসহায় হতদরিদ্র পরিবারের...





