জামালপুর সদর হাসপাতালে নারীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে জরুরি বিভাগে হামলা ও ভাংচুর করেছে রোগীর স্বজনরা। এ সময় হাসপাতাল গেটে দু'পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। হামলায় ডা: চিরঞ্জীব সরকারসহ চারজন ইন্টার্ন চিকিৎসক গুরুতর আহত হয়েছেন। শুক্রবার দুপুর দেড়টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলতে থাকে। এ ঘটনার পর থেকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বেলা পৌনে ১টার দিকে জামালপুর শহরের ইকবালপুর এলাকার মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী করিমনকে (৬৪) গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান তার স্বজনরা। এ সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক চিরঞ্জীব সরকার প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ করে রোগীকে হাসপাতালের মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করাতে বলেন। পরে বেলা ১টা ৮ মিনিটে তাকে ওই ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতাল সূত্রে আরো জানা যায়, ওই ওয়ার্ডে কর্মরত নার্স ও চারজন ইন্টার্ন চিকিৎসক রোগীকে ভর্তি করিয়ে অক্সিজেন দেন। কিন্তু কয়েক মিনিটের মধ্যে রোগী আরো শঙ্কটাপন্ন হয়ে পড়লে রোগীর স্বজনরা বেশি করে অক্সিজেন দিতে বলেন। কিন্তু দায়িত্বরত চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া বেশি অক্সিজেন দিতে রাজি না হওয়ায় রোগীর স্বজনদের সাথে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের তর্ক হয়। একপর্যায়ে রোগীর স্বজনরা চারজন ইন্টার্ন চিকিৎসককে মারধর করে। এতে তারা গুরুতর আহত হন। ইন্টার্ন চিকিৎসকরা শেখ হাসিনা মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থী। পরে করিমনের স্বজনরা তাকে ওয়ার্ড থেকে তুলে নিয়ে পুনরায় জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে ডা: চিরঞ্জীব সরকার রোগীকে মৃত ঘোষণা করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, এ সময় তারা অভিযোগ করেন ডাক্তারদের অবহেলায় রোগীর মৃত্যু হয়েছে। একপর্যায়ে রোগীর স্বজনরা ডা: চিরঞ্জীব সরকারের কক্ষে হামলা, মারধর ও বিভাগের আরো দুটি কক্ষের আসবাবপত্র ও চিকিৎসা সরঞ্জাম ভাংচুর করেন। এর কিছুক্ষণ পর রোগীর এলাকা থেকে আরো অর্ধশত লোকজন হাসপাতালে গিয়ে হামলার চেষ্টা করে। এ সময় হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সাথে দুই দফা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার হয়। খবর পেয়ে জামালপুর সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় পুলিশ সেখান থেকে কয়েকজন ইন্টার্ন চিকিৎসকসহ অন্তত ১০ জনকে আটক থানায় নিয়ে যায়।

বহিরাগতদের হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন ডা: চিরঞ্জীব সরকার, ইন্টার্ন চিকিৎসক রিয়াদ মাহমুদ, হাবিবুল্লাহ রহমান, রাকিবুল হাসান ও রিদম। তাদের মধ্যে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা তাদের আবাসিক হলে এবং ডা: চিরঞ্জীব সরকার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার অবস্থা খুবই সঙ্কটাপন্ন।

এ দিকে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে জরুরি বিভাগে হামলা, ভাংচুর ও ডাক্তারদের মারধরের ঘটনার পর থেকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, জরুরি বিভাগের আসবাবপত্র তছরুপ অবস্থায় পড়ে আছে। কোনো চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নেই। জরুরি চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা ফিরে যাচ্ছেন।

জামালপুর সদর হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা: মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান এ ব্যাপারে নয়া দিগন্তকে বলেন, হাসপাতালের ওয়ার্ড, জরুরি বিভাগ ভাংচুর ও ডাক্তারদের মারধরের ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। বিষয়টি তদন্ত করে জরুরিভিত্তিতে ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: রেজাউল ইসলাম খান নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘সদর হাসপাতালে হট্টগোলের ঘটনায় থানায় কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ এলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য ঘটনাস্থল থেকে কয়েকজনকে আটক করে থানায় আনার পর তাদেরকে ছেড়ে দিয়েছি।’