‘ক্ষতিগ্রস্ত সেতু ভারী যানবাহন চলাচল নিষেধ’ লেখা লাল রঙের সাইনবোর্ড লাগানো একটি বাঁশের খুঁটি দাঁড়িয়ে আছে সেতুর গর্তে। গর্ত এড়িয়ে কোনোমতে চলাচল করছে ছোট আকারের যানবাহন। কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীর বাগভান্ডার সড়কের পূর্ব বাগভান্ডার এলাকায় এমন একটি সেতু বেশ কিছু দিন যাবৎ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। সেতুটি ভেঙে পড়ায় আশপাশের কয়েক গ্রামের মানুষকে যাতায়াতের ক্ষেত্রে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ঝুঁকি নিয়ে ভাঙা সেতু দিয়ে চলাচলে পথচারীরা প্রায় সময়ই শিকার হচ্ছেন দুর্ঘটনার।
সরেজমিনে দেখা যায়, পূর্ব-পশ্চিমে আড়াআড়ি সেতুটি। পশ্চিম দিকের পাটাতনের অনেকটা অংশ ধ্বসে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে গর্তের। ভেঙে গিয়ে ঝুলে রয়েছে অবশিষ্টাংশ। সেতুটির পূর্ব দিকে রয়েছে পূর্ব বাগভান্ডার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি কওমী মাদরাসা। পশ্চিম দিকে রয়েছে বাগভান্ডার দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও বাগভান্ডার বিওপি। ছাত্র-ছাত্রী ও বিজিবি সদস্যসহ কয়েক হাজার মানুষ প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছে সেতুটি।
বাগভান্ডার গ্রামের অটোরিকশাচালক বারেক জানান, ‘পরিবারের সদস্যদের মুখে খাবার তুলে দিতে বাধ্য হয়ে প্রতিদিন ভাঙা সেতুর উপর দিয়ে যাত্রী নিয়ে উপজেলা সদরে যাওয়া-আসা করছি।’
এলাকাবাসী জানায়, সম্প্রতি একজন মোটরসাইকেলচালক সেতুর গর্তে পড়ে গিয়ে মারাত্মক আহত হন। সেতুটি ভারী যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হওয়ায় অ্যাম্বুলেন্স ও ফায়ার সার্ভিসের গাড়িসহ অন্য সরকারি দফতরের গাড়ি জরুরি প্রয়োজনে সরাসরি ওই এলাকায় যেতে পারছে না।
দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন এমন একজন পুলিশ সদস্য জানান, ‘ছুটিতে বাড়ি এসে জরুরি প্রয়োজনে বাগভান্ডার গিয়ে মোটরসাইকেলসহ ভাঙা সেতুর গর্তে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হই।’
এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা যায়, সেতুটি দৈর্ঘ্যে সাত মিটার ও প্রস্থে ছয় মিটার।
ভূরুঙ্গামারী উপজেলা প্রকৌশলী এন্তাজুর রহমান জানান, সেতুটি নতুনভাবে নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ভাঙা সেতুটি পরিদর্শন করেছেন। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।









