‘আমি ভাইরে ছাড়া যাবো না, আমি আমার নাইমরে রেখে যাবো না’। এমন আর্তনাদে কিছুক্ষণের জন্য বিষাদময় হয়ে উঠেছিলো ঢাকা মেডিক্যালের (ঢামেক) জরুরি বিভাগ।
বুধবার ঢাকা মেডিক্যালের জরুরি বিভাগের সামনে দেখা যায় একজন মধ্য বয়সী নারী ও এক যুবককে কয়েকজন মিলেও গাড়িতে তুলতে পারছে না। তারা বিলাপ করছে, আর চিৎকার দিয়ে বলছে, ‘আমি আমার নাইমরে রাইখা যাবো না, তোরা যা’। ‘আমার কলিজারে আমি দেখুম। আমার কলিজাটায় ঘুমাইছে, ওরে ডাক দে। আঞ্জুম- তোর ভাইরে ডাক দে, তোর ভাই ভাত খাইবো।’
সামনে গিয়ে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে মঞ্জিলা বেগম (৩৫) নামে এক নারী নয়া দিগন্তকে জানান, মঙ্গলবার গভীর রাতে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরকে ঘর থেকে তুলে রাস্তায় নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে সেখানে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে ফেলে রেখে যায়।
নিহতের মামী মঞ্জিলা বেগম নয়া দিগন্তকে আরো জানান, নিহত নাইম হাওলাদার শরিয়তপুর জেলার ঘোষেরহাট থানার চরমোহনপুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমান হাওলাদারের ছোট ছেলে। ছয় ভাই বোনের মধ্যে নাইম পঞ্চম। তার ছোট বোন ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়েন।
তিনি বলেন, নাইমের বাবা একজন ভালো মানুষ। তিনি প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মসজিদে গিয়ে পড়েন।
নাইমের মা বলেন, মঙ্গলবার বিকেলে তার বাসায় দু’জন নারী আসেন এবং কিছুক্ষণ থেকে আবার চলে যান। এরপর থেকেই নাইমের বাবা হাবিবুর রহমান হাওলাদারের চোখে প্রচণ্ড ঘুম আসে। ঘুমের কারণে তিনি মঙ্গলবার মাগরিব ও এশার নামাজ আদায় করতে পারেননি। বাসার সবাই খুব তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়েছিল। রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে দুর্বৃত্তরা নাইমের ঘরে ঢুকে। এ সময় নাইমকে তারা রাস্তায় তুলে নিয়ে গিয়ে ছুরি দিয়ে এলোপাথাড়ি আঘাত করে। এতে নাইমের কিডনি ও গলার রগ কেটে যায়। এ সময় নাইমের বড় ভাই মো: কামাল হাওলাদার নাইমকে উদ্ধার করতে দৌড়ে গেলে দুর্বৃত্তরা তার মাথায় আঘাত করে পালিয়ে যায়। পরে আহত নাইম ও তার বড় ভাই কামালকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নাইমকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে পাঠায়। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নাইমকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত নাইমের মা নাসিমা বেগম (৪০) নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘বাবা আমার পোলা ফেরেশতার মতো ছিল। রাতে আমি নিজে খাওয়াইয়া ঘুম পাড়াই দিছি। আমার পোলাডারে ওরা শেষ কইরা দিছে। আমার পোলায় আমারে আর মা কইবো না’।
এ সময় তিনি আরো বলেন, ‘আমার পোলার মতো এইরকম ভালো পোলা একটাও এই গ্রামে নেই। আমার পোলাডারে মাইরা ফালাইছে বাবা। আমার মানিক রতন আমার কাছে আর ভাত চাইবো না।’





