বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ৫০ শয্যার উপজেলা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও খাবার সরবরাহকারী ঠিকাদারের যোগসাজশে বেডে রোগী না থাকলেও রেজিষ্ট্রারে রোগী ভর্তি দেখিয়ে খাবারের টাকা ভাগাভাগি করে নেয়ার প্রমাণ মিলেছে। এ দিকে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উদঘাটনের পর থেকেই বিষয়টি চেপে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন মহল থেকে তদবির শুরু হয়েছে।
সরেজমিন বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে ৫, ৮, ৯, ১২, ১৪, ১৭, ৩৪, ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪১ ও ৪২ নম্বর বেডসহ মোট ১২টি বেড খালি। অথচ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের রেজিস্ট্রার খাতায় দেখা যায় সব বেডে ভর্তি রোগীর কারণে অতিরিক্ত বেডে ভর্তি দেখানো হয়েছে হাসপাতালের স্টাফ নারায়ণ, স্টাফ মোরসেদা পারভীন, স্টাফ মাসুদ হোসেন, তাদের আত্মীয়স্বজন ফুলজান বেগম, রিজিয়া বেগম, শাজাহান, সিরাজ খান, মিজানুর রহমানসহ আটজনকে ভর্তি দেখানো হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার রাতে হাসপাতালে ডিউটিরত নার্স মাধবী লতা রাজীব, আভা রানী করাতী ও সাহিদা সুলতানা জানান, এ রকম অনেক রোগীই হাসপাতালের খাতায় ভর্তি দেখানো হলেও বাস্তবে তাদের খুঁজে পাওয়া যায় না।
সূত্র মতে, ৫০ শয্যার হাসপাতালে শয্যার অধিক রোগী থাকলে তাদের ফ্লোরে বেড দেয়া হয়। যা এক্সটা বেড বলে খাতায় লেখা হয়। কিন্তু হাসাপতালের ১২টি বেড খালি থাকা সত্ত্বেও হাসপাতালের স্টাফ ও তাদের স্বজনদের নামে এক্সটা বেড দেয়ার বিষয়টি পুরো রহস্যজনক।
নাম না প্রকাশের শর্তে একটি বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে সরকারের বিশেষ খাবার পরিবেশনের জন্য রোগী প্রতি ২০০ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। সরকারের বিশেষ বরাদ্দের টাকা হাতিয়ে নিতে হাসপাতালের একটি চক্র সব সময়ে তৎপর থাকে। ওই চক্রটি শুধু বিশেষ দিন ৯ মাসের অন্তত ২০ দিন রোগী ভর্তি দেখিয়ে, তাদের নামের খাবারের অর্থের রোগী প্রতি ১২৫ টাকা হাতিয়ে নেয়।
এ দিকে ওই ভুয়া রোগীদের ক্ষেত্রে কর্তব্যরত চিকিৎকেরা রোগীকে না দেখেই তাদের নামে ব্যবস্থাপত্রে ওষুধ লিখে দিচ্ছেন। রোগী না দেখে ওষুধ লিখে দেয়ার বিষয়ে নাম না প্রকাশের শর্তে এক চিকিৎসক বলেন, রেজিস্ট্রারে রোগী ভর্তির কারণ লেখা দেখেই ওষুধ লেখেন তারা।
এ বিষয়ে উপজেলা হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (প্রধান কর্মকর্তা) ডা: বখতিয়ার আল মামুন বলেন, হাসপাতালের পুরো বেডে রোগী ভর্তির পরেই কেবলমাত্র এক্সটা বেড ব্যবহার করা হয় বা লেখা হয়। দিন শেষে কত রোগী ভর্তি আছে এমন একটি কাগজে তার স্বাক্ষর নেয়া হয়। তবে তিনি রোগী গুনে ওই কাগজে প্রতিদিন স্বাক্ষর করেন না। রোগী ভর্তির গোঁজামিলের বিষয়ে তিনি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলেও জানান।
এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন ডা: মানোয়ার হোসেন বলেন, বিষয়টি দুঃখজনক। এটা হওয়া কোনো রকমেই উচিত না। আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
স্বাধীনতা দিবসের টাকা আত্মসাৎ করতে হাসপাতালে ভুয়া রোগী!
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ৫০ শয্যার উপজেলা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও খাবার সরবরাহকারী ঠিকাদারের যোগসাজশে বেডে রোগী না থাকলেও রেজিষ্ট্রারে রোগী ভর্তি দেখিয়ে খাবারের টাকা ভাগাভাগি করে নেয়ার...





