ময়মনসিংহের ভালুকায় সরকারি খাল ও বন বিভাগের জমি দখলে নিয়ে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে অ্যাক্সিল্যান্ট টাইলস অ্যান্ড সিরামিক্স লিমিটেড নামে একটি কোম্পানির বিরুদ্ধে। ঘটনাটি উপজেলার পাড়াগঁাঁও গ্রামে। খাল ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেয়ায় উজানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে ব্যাপক ক্ষতির কারণ হতে পারে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।
সরেজমিন স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার হবিরবাড়ি ও পাড়াগাঁও গ্রামের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত ঐতিহ্যবাহী লাউতি খালটি ব্যবহার হতো উজানের বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠা অর্ধশতাধিক কারখানার বর্জ্য নিষ্কাশনের রাস্তা হিসেবে; কিন্তু কিছু অসাধু ব্যক্তিরা খালটির বিভিন্ন স্থানে মাটি ফেলে ভরাট করে ফেলছে। সম্প্রতি সিডস্টোর-বাটাজোর সড়কের পাশে পাড়াগাঁও লাউতি ব্রিজ-সংলগ্ন বিশাল এলাকা নিয়ে গড়ে উঠছে অ্যাক্সিল্যান্ট টাইলস নামে একটি সিরামিক্স ফ্যাক্টরি। ফ্যাক্টরিটির পূর্ব পাশে লাউতি খাল ও দক্ষিণে সরকারি খাসভূমি, পশ্চিম ও উত্তর পাশে রয়েছে বন বিভাগের বিশাল ভূমি। আর এসব বনভূমি দখলে নিয়ে কোম্পানিটি স্থাপনা নির্মাণের কাজ শুরু করলে স্থানীয় বন বিভাগ তাতে বাধা দেয় এবং কোম্পানির বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করে।
এ ব্যাপারে ফ্যাক্টরির অ্যাডমিন ম্যানেজার মোক্তার হোসেন জানান, বন বিভাগ বাধা দেয়ার কারণে কাজ আপাতত বন্ধ রয়েছে। খাল দখলের বিষয়ে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, খালটি তার আগের স্থানেই রয়েছে।
সদ্য পদন্নতি পাওয়া সহকারী বন সংরক্ষক ও ভালুকা রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মোজাম্মেল হোসেন জানান, পাড়াগাঁও মৌজার ২৯০ ও ২২৭ নম্বর দাগে তিন একর করে জমি দখল করে রেখেছে অ্যাক্সিল্যান্ড সিরামিক্স নামে একটি কোম্পানি এবং স্থাপনা নির্মাণের কাজও শুরু করেছিল। পরে বনভূমি দখল ঘটনায় বন বিভাগের পক্ষে কোম্পানির বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাগুলো বর্তমানে চলমান রয়েছে। তা ছাড়া তারা যাতে নামজারি ও জমাখারিজ করতে না পারে সে জন্য ভূমি কর্মকর্তা বরাবর লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। তিনি আরো বলেন, খাস ভূমি দখলের ব্যাপারেও সংশ্লিষ্ট দফতরকে অবহিত করা হয়েছে।