রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার নারুয়া ইউনিয়নের সোনাকান্দর গ্রামে এক বিধবার বাড়ির চারপাশে ইট ও কাটার বেড়া দিয়ে অবরুদ্ধ করে চলাচলে বাধা সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। বেড়া দেয়ার প্রতিবাদ করায় বিধবার পালিত সন্তানের মেয়েদেরকে মারধরের অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।

উপজেলার নারুয়া ইউনিয়নের সোনাকান্দর গ্রামের মৃত ফিকির খানের স্ত্রী করিমন বিবি (৯০) কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার কোনো সন্তান নেই। বোনের শিশু সন্তান মঞ্জুরুল ইসলামকে এনে মা-বাবার স্নেহে মানুষ করি। এরই মধ্যে আমার স্বামীর মৃত্যু হয়। স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে প্রতিবেশী সিরাজুল ইসলাম খান, রহমান খান, রনি খান মিলে আমাকে ভিটে ছাড়া করতে মামলা দিয়ে হয়রানী করছে।

তিনি বলেন, আমার বসতবাড়ির চারপাশে বাঁশের ও ইটের বেড়া দিয়ে যাতায়াতে বাধা সৃষ্টি করছে। তাদের বেড়ার কারণে আমি ও আমার ছেলে ও নাতি-নাতনীদের চলাচলে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। আমার পরিবারটিকে তারা বেড়া দিয়ে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। প্রশাসনের নিকট আমাকে হয়রানীর হাত থেকে রক্ষার দাবি জানাচ্ছি।

মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, আমাকে খালা-খালু ছোট বেলায় এনে আমাকে মানুষ করেছেন। আমি তাদের দেখাশুনা করে আসছি। খালুর মৃত্যুর আগে আমাকে জমি লিখে দিয়েছেন। আমি ওই বাড়িতেই বসবাস করে আসছি। দীর্ঘ দিন ধরে আমাকে তাড়ানোর জন্য আমার মেয়ে মুন্নী খাতুন ও মিতু খাতুনকে মারধোর করাসহ বসতবাড়ির চারপাশে বেড়া দিয়ে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। থানা ও আদালতে মামলাও করেছেন তারা। আমি প্রশাসনের নিকট দোষীদের শাস্তির দাবি করছি। আমি যাতে ভালোভাবে বসবাস করতে পারি তার সু-ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাই।

প্রতিবেশী আদেল উদ্দিন খান বলেন, দীর্ঘ দিন থেকে সিরাজ খানরা এ পরিবারটিকে নানা ভাবে হয়রানি করে আসছে। এখন তার বাড়ির চারপাশে বেড়া দিয়ে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।

অভিযুক্ত সিরাজুল ইসলাম খান বলেন, রাতের অন্ধকারে মঞ্জুরুল আমার চাচা-চাচির কাছ থেকে জমি লিখে নিছে। আমাদের অংশ ফাঁকি দিয়েছে। বসতবাড়ির চারপাশে আমার জমি হওয়ায় আমি বেড়া দিয়েছি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আম্বিয়া সুলতানা বলেন, আমার কাছে এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেনি বা মৌখিকভাবেও অবগত করেনি। তারপরও বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে দেখছি।