প্রতিবন্ধী অবিবাহিত বোনের মাথা গোঁজার ঠাঁই ভেঙে উচ্ছেদের পর সেখানে বিল্ডিং নির্মাণ করছেন চট্টগ্রাম বন্দরে চাকরিরত ভাই সাইফুল হাসান সরকার। আর হতভাগা প্রতিবন্ধী বোন এ বাড়ি সে বাড়ি হয়ে এখন বোনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। এ অবস্থায় তিন বোন তাদের নিরাপত্তার দাবি করে এবং বাড়ির জায়গা ভাগ না করা পর্যন্ত কাজ বন্ধ রাখার বিষয়ে বেড়া থানায় জিডি করেছেন।
বেড়া মডেল থানার জিডি সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার জগন্নাথপুরের জালাল উদ্দিন সরকারের তিন মেয়ের মধ্যে ছোট প্রতিবন্ধী নুরুন্নাহার পারভীন বাবার রেখে যাওয়া টিনশেড ঘরে বসবাস করে আসছেন। অপর দুই মেয়ে সামসুন্নাহার পারভীন ও সেলিনা পারভীন স্বামীর সংসারে বসবাস করছেন। তাদের একমাত্র ভাই সাইফুল হাসান সরকার চট্টগ্রাম বন্দরে চাকরি করেন। ভাই সাইফুল হাসান গত ১৫ মার্চ জগন্নাথপুরের বাড়িতে বোন ও ভগ্নিপতিদের দাওয়াত করে এনে তিনি কোথায় বিল্ডিং করবেন তা জানতে চান। তিন বোন ১৯ শতাংশ জায়গা লম্বালম্বি উত্তর দক্ষিণ ভাগ করে যে কোনো অংশে তিনি বিল্ডিং করতে পারবেন বলে জানান। বোনদের এ কথা শুনে ভাই উত্তেজিত হয়ে অশ্রাব্য গালাগাল করে প্রতিবন্ধী বোন নুরন্নাহারের ঘর ভাঙচুর করেন। এরপর প্রতিবন্ধী বোনকে এক রাতের মধ্যে ঘর ভেঙে নেয়ার সময় দেন। বোন ঘর না ভাঙলে সাইফুল হাসান পাঁচ দিনের মাথায় তার বসবাসের তিনটি ঘর ভেঙে জায়গা খালি করে বিল্ডিং নির্মাণ শুরু করেন।
এ ব্যাপারে সাইফুল ইসলাম সরকারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি বোনদের সাথে জায়গা ভাগ করতে কয়েকবার বৈঠক করেন। তারা একেক সময় একেক রকম কথা বলেন। তাদের সাথে আলাপ করেই তিনি বিল্ডিং নির্মাণ শুরু করেছেন দাবি করে জানান, বিল্ডিং নির্মাণের শুরুতেই তারা বাধা না দিয়ে এতদিন পর থানায় জিডি করেছেন। তিনি লকডাউনের পরে বেড়া থানার ওসির সাথে দেখা করবেন বলে থানাকে অবহিত করেছেন। ওসি এ পর্যন্ত তাকে বিল্ডিং নির্মাণ বন্ধ রাখতে বলেছেন বলেও তিনি জানান।
এদিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বোন সামসুন্নাহার পারভীন ভাইয়ের এ কথা মিথ্যা বলে দাবি করেন।