সিলেটের গোলাপগঞ্জে যৌতুকের টাকা না দেয়ায় শয়নকক্ষে ঢুকে গৃহবধূ রুবিয়া বেগমকে দা দিয়ে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছেন তার স্বামী-শাশুড়ি ও দেবর। ঘটনার পর স্থানীয়রা ওই গৃহবধূকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আশঙ্কাজনক অবস্থায় ওই গৃহবধূকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। শুক্রবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার রণকেলী লামার দক্ষিণভাগ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

গৃহবধূর বাড়ি উপজেলার লামার দক্ষিণভাগ গ্রামে। তিনি একই গ্রামের এরশাদ আহমদের স্ত্রী রুবিয়া বেগম।

এ ব্যাপারে ওই গৃহবধূর ভাই আব্দুস ছালাম ছয়জনকে আসামি করে গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্বামী এরশাদ আহমদ ও মজিবুর রহমান নামে আরো এক আসামিকে আটক করেছে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় সাত বছর আগে উপজেলার বারকোট গ্রামের মৃত রুনু মিয়ার মেয়ে রুবিয়া বেগমের সাথে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় এরশাদ আহমদের। এরশার আহমদ উপজেলার লামার দক্ষিণভাগ গ্রামের মৃত ‍লুৎফুর রহমান লুতুর ছেলে। বিয়ের পর থেকেই রুবিয়া বেগমকে যৌতুকের জন্য চাপ দিতে থাকে স্বামী এরশাদের পরিবার। যৌতুকের টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে দফায় দফায় মারধর করতে থাকেন স্বামী এরশাদ আহমদ, দেবর, ভাসুর ও শাশুড়ি। এ নিয়ে এলাকায় কয়েকদফা সালিশি বৈঠকও হয়। তাতেও নির্যাতন কমেনি রুবিয়া বেগমের ওপর। শুক্রবার ফের দুই লাখ টাকা যৌতুকের জন্য রুবিয়া বেগমকে চাপ দেয় শ্বশুর বাড়ির লোকজন।

স্থানীয়রা আরো জানায়, রুবিয়া বেগমের মা-বাবা বেঁচে না থাকায় যৌতুকের টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান তিনি। এ দিকে আর্থিক অবস্থা ভালো নয় রুবিয়া বেগমের ভাইদেরও। এ নিয়ে স্বামী এরশাদ আহমদের সাথে কথা কাটাকাটি হয় রুবিয়া বেগমের। একপর্যায়ে এরশাদ আহমদ উত্তেজিত হয়ে ধারালো দা দিয়ে রুবিয়ার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় কুপিয়ে গুরুতর আহত করে পালিয়ে যান তিনি এবং তার পরিবার।

পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় রুবিয়াকে প্রথমে উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থা আশঙ্কাজনক থাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। এ ব্যাপারে গৃহবধূর ভাই আব্দুস ছালাম ছয়জনকে আসামি করে গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ গৃহবধূর স্বামী এরশাদ আহমদ ও মুজিবুর রহমান নামে দুই আসামিকে আটক করেছে।

এ ব্যাপারে গোলাপগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হারুনুর রশীদ চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করলে দুই আসামি আটকের বিষয় নিশ্চিত করেছেন তিনি।