ময়মনসিংহের ভালুকায় শহীদ শমসের সড়কের প্রায় ১৪ কিলোমিটারে অসংখ্য খানাখন্দের সৃষ্টি হয়ে যান চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। যাত্রী ও পণ্যবাহী কোনো যানবাহন না চলায় এলাকাবাসী চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছে।
সড়কটি সিডস্টোর বাজার থেকে বাটাজোর হয়ে সখীপুর উপজেলা পর্যন্ত। এক দিকে উপজেলার শিল্পাঞ্চল হবিরবাড়ী, কাচিনা ও ডাকাতিয়া ইউনিয়নসহ পাশের সখিপুর উপজেলার বেশির কৃষকরা কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে পারছেন না। অন্য দিকে সড়কটির দুই পাশে শতাধিক শিল্প উদ্যোক্তা বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের লক্ষ্যে জমি ক্রয় করলেও শিল্পকারখানা স্থাপনের কাজ করতে পারছেন না। এতে শিল্পায়নে সৃষ্টি হয়েছে ধীরগতি। আর চলমান কারখানাগুলো উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত ও কাঁচামাল সংগ্রহে মারাত্মক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে।
উপজেলা প্রকৌশলৗ অফিস সূত্রে জানা যায়, ভালুকা উপজেলাধীন ১৩.৭০ কিলোমিটার সড়ক পাকাকরণের জন্য ২৪ কোটি ৯৫ লাখ ৩৩ হাজার ২৩৩ টাকা ব্যয় নির্ধারণপূর্বক দরপত্র আহ্বান করা হয়। ওই প্রকল্পের জন্য রাফিয়া কনস্ট্রাকশন লিমিটেড নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মনোনীত হয়ে কার্যাদেশ প্রাপ্ত হয়ে গত ৮ অক্টোবর ২০১৯ তারিখে কাজ শুরু করেন। ১ মার্চ ২০২১ তারিখে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শুরুতে দুই থেকে তিন মাস সময় নিয়মিত কাজ করে দুই কিলোমিটার সড়কের কিছু অংশ মেকাডাম পর্যন্ত করে প্রকল্পের মূল কাজের প্রায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ সম্পন্নপূর্বক নির্বাহী প্রকৌশলী, এলজিইডি ময়মনসিংহ বরাবর ১০ কোটি টাকার আংশিক বিল জমা দেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজের অগ্রগতি যাচাই-বাছাইপূর্বক এক কোটি টাকার আংশিক বিল দেন। বিল নেয়ার কিছু দিনের মধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হঠাৎ কাজ বন্ধ করে লাপাত্তা হয়ে যায়।
উপজেলা প্রকৌশলৗ ও প্রকল্প ব্যবস্থাপক রফিকুল ইসলাম জানান, তিন মাস আগে আবারো দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। কিন্তু বাতিলকৃত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাথে বাস্তবায়নকৃত কাজসহ নানা বিষয়ে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি ও দাফতরিক কাজকর্ম সম্পন্ন না হওয়ায় পরবর্তী ঠিকাদারকে কার্যাদেশ প্রদানে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে।
ভালুকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালমা খাতুন বলেন, নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে জন সড়কটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সমন্বয় করে আসছি। আশা করি খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ওই সড়কের নির্মাণকাজ শুরু হবে।