মাগুরার মহম্মদপুরের কালুকান্দি গ্রামে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার আজিজুর রহমানের (৩০) বিছিন্ন মাথা ও একটি পা ৯দিন পর সোমবার সন্ধ্যায় মাগুরা সদরের জগদল এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে র্যাব।
সোমবার দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যশোরের শার্শা থেকে হত্যাকারী আশরাফকে গ্রেফতার করে র্যাবের একটি দল। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী জগদল এলাকার একটি কালভাটের নিচ থেকে নিহত আজিজুরের মাথা ও পা উদ্ধার করা হয়। এ সময় সে র্যাবের কাছে হত্যার দায় স্বীকার করে।
র্যাব কর্মকর্তা রওশনুল ফিরোজ এ বিষয়ে জানান, আশরাফ সদর উপজেলার মালিকগ্রামের আহম্মদ আলী বিশ্বাসের ছেলে। মাগুরা শহরের বেলতলায় তার হোমিও প্যাথির ব্যবসা আছে। পাশাপাশি সে মাল্টিলেভেল মার্কেটিং-এমএলএম ব্যবসা করে। এই ব্যবসার সূত্রেই আজিজুরের সাথে তার সম্পর্ক। আশরাফ আজিজুরের নিকট তিন হাজার টাকার ইনসেন্টিভ পেত কিন্তু আজিজুর তাকে পাঁচ শ’ টাকা দিতে চাওয়ায় দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। অর্থেও এই দ্বন্দ্ব থেকেই এ হত্যারকাণ্ডের ঘটনা ঘটে বলে আশরাফ স্বীকার করেছে। এই বিরোধের জের ধরেই ৫ জুন আশরাফ আজিজুরকে নিজ হোমিও দোকানে ডেকে এনে হত্যা করে। পরে বডি থেকে মাথা ও পা খন্ডিত করে জগদলের ওই কালভার্টে ফেলে দেয়। দেহের বাকি অংশ বস্তাবন্দি করে আজিজুরের মামা বাড়ি মাগুরার মহম্মদপুরের কালুকান্দি একটি পুকুরে ফেলে আত্মগোপন করে।
উল্লেখ্য, গত ৫ জুন আজিজুর রহমান সকালে বাসা থেকে যশোরের উদ্যেশে রওনা হয়ে নিখোঁজ হয়। পরে ৬ জুন সকালে কালুকান্দি গ্রামের মতিয়ার মোল্যার পুকুরে স্থানীয় লোকজন রক্তাক্ত একটি বস্তা দেখে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে বস্তাটি উদ্ধার করলে তার ভেতর মাথা ও একটি পা বিহীন লাশ পাওয়া যায়। পরে লাশের পরিহিত পোষাক দেখে এটি আজিজুর রহমানের লাশ বলে দাবি করে তার ছোট ভাই হাবিবুর রহমান। ওই দিন হাবিবুর রহমান মহম্মদপুর থানায় হত্যা ও আলামত গোপনের অভিযোগে একটি মামলা করেন। পুলিশের পাশাপাশি র্যাব এ হত্যাকাণ্ডে অভিযান শুরু করে।









