লক্ষ্মীপুরের মজু চৌধুরীর হাট ফেরিঘাটের ইজারা নিয়ে দু’পক্ষের দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করেছে। জেলা পরিষদ ও বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃক পৃথক দুই ইজারাদারের পক্ষ নিয়েছে। ঘাট দখলকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আ’লীগের প্রভাবশালী দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সম্প্রতি ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে লাঞ্ছনার শিকার হন বিআইডব্লিউটিএ’র চাঁদপুর-লক্ষ্মীপুর অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপপরিচালক এ কে এম কায়সারুল ইসলাম। এতে করে ঘাট এলাকায় চলমান বিরোধ প্রকাশ্যে রূপ নেয়ায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
জানা যায়, জেলার সদর উপজেলার মজু চৌধুরীর হাট ফেরিঘাট এলাকার দুই কিলোমিটার স্থানীয় জেলা পরিষদ মালিকানা দাবি করে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে ২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য ৯০ লাখ টাকা ইজারা দেয়া হয়। গত বুধবার ইজারাদার ইসমাইল হোসেন পাঠানকে (ঠিকাদার) ঘাট দখল বুঝিয়ে দেয় জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ। এ সময় তার পক্ষে অবস্থান নেন আ’লীগ নেতা আলমগীর হোসেনসহ জেলা ছাত্রলীগের কিছু নেতাসহ অনেকে।
অন্য দিকে গত ২৮ জুন চলতি অর্থবছরের জন্য মোট ৫৪ লাখ টাকা ইাজারামূল্য নির্ধারণ করে বিআইডব্লিউটিএ’র বন্দর ও পরিবহন বিভাগের চাঁদপুর কার্যালয়। এ প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ইজারাপ্রাপ্ত হন জনৈক শিমুল চক্রবর্তী। তার পক্ষে অবস্থান নেন ছাত্রলীগের সাবেক কিছু নেতাসহ স্থানীয় আ’লীগ কর্মীরা। এমন পরিস্থিতিতে ঘাট এলাকার দখল নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহজাহান জানান, আগের নিয়ম অনুযায়ী জেলা পরিষদ থেকে ইজারা দেয়া হয়েছে। নতুন কোনো নির্দেশনা পাননি বলে জানান তিনি। এ দিকে ঘটনা অস্বীকার করেন অভিযুক্ত অপর ইজারাদার ইসমাইল হোসেন পাঠান।
শুক্রবার এ ব্যাপারে সদর থানার ওসি জসীম উদ্দিন বলেন, দু’পক্ষের মুখোমুখি অবস্থান পুলিশি হস্তক্ষেপে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। হামলা ও লাঞ্ছনার বিষয়টি নিয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।