চাচাতো বোনের খোঁজে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে সেজান জুস কারখানার গেটে অপেক্ষা করছেন কলি আক্তার ও তার স্বামী দিদার। শুক্রবার রাত ১০টা পর্যন্ত সন্ধান মেলেনি নার্গিসের। বোনের খোঁজ না পেয়ে কান্না করতে করতে বাসায় ফেরেন কলি আক্তার।
শুক্রবার রাত সোয়া ১০টার দিকে এমন দৃশ্য চোখে পড়ে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কর্ণগোপ এলাকার সেজান জুস কারখানার মূল ফটকের সামনে।
নিখোঁজ নার্গিসের দুলাভাই দিদার নয়া দিগন্তকে জানান, নার্গিসের বাড়ি কিশোরগঞ্জে। কৃষক বাবার তিন ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে মেঝ নার্গিস। বিয়েও হয়েছিল তার। স্বামীর নির্যাতনের কারণে বিয়ে টেকেনি। অস্বচ্ছল পরিবারে বোঝা হয়ে থাকতে না চেয়ে চাকরি নেন সেজান জুস কারখানায়। থাকতেন মহিলা মেসে।
দিদার বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেলে কারখানায় আগুন লাগার পর থেকে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ। আমরা এখনো তার সন্ধান পাইনি।
কলি আক্তার বলেন, ‘মাইয়াডা জীবনে সুখ চোখে দেখল না। ছোটকালে কষ্ট কইরা বড় হইছে। বিয়া দিছিল। জামাই একদিনও সুখ দেয় নায়। শেষ পর্যন্ত আগুনে পুইড়া মরল। চাচারে কী জানবো আল্লাহ!’
বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টার পর রূপগঞ্জে সজীব গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান হাসেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজের ফুডস ফ্যাক্টরি তথা সেজান জুস কারখানায় আগুন লাগে। শুক্রবার সন্ধ্যায় ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক মজিবুর রহমান জানান, ১৮টি ইউনিটের ১১০ জন ফায়ার সার্ভিসকর্মীর প্রচেষ্টায় শুক্রবার দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটে আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে এখনো আমাদের ড্যাম্পিংয়ের কাজ চলছে। কাজ শেষ হলে আমরা পুরোপুরিভাবে নিয়ন্ত্রণে আসছে বলে ঘোষণা দিতে পারব। এজন্য আরো সময় লাগবে।
তিনি আরো জানান, এ পর্যন্ত অগুন দুর্ঘটনায় আহত ২৫ জনকে পাশের ইউএস বাংলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া ওই ভবনের চতুর্থ তলায় ৪৯ জন ও মেডিক্যালে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছে নার্গিসের মতো আরো অনেকে।





