করোনাভাইরাস ও উপসর্গ নিয়ে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

গতকাল বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার মধ্যে বিভিন্ন সময়ে তারা মারা গেছেন। এরমধ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়ে পাঁচজন ও উপসর্গ নিয়ে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল রামেক হাসপাতালের করোনা ইউনিটে। ফলে এক দিনের ব্যবধানে আবার মৃত্যু কমেছে। রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী সাংবাদিকদের এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি আরো জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ১৯ জনের মধ্যে রাজশাহীর ছয়জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিনজন, নাটোরের দু’জন, নওগাঁর দুইজন ও পাবনার ছয়জন ছিলেন।

করোনা সংক্রমণ ও উপসর্গে মৃত্যুর বিষয়ে তিনি বলেন, করোনা আক্রান্ত হয়ে রাজশাহীর দু’জন, নাটোরের একজন, নওগাঁর একজন ও পাবনার একজন মারা গেছেন। আর করোনার উপসর্গ নিয়ে রাজশাহীর চারজন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিনজন, নাটোরের একজন, নওগাঁর একজন ও পাবনার পাঁচজন মারা গেছেন।

মৃতদের পরিবারকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে লাশ দাফন করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

রোগীদের ভর্তি ও সংক্রমণের বিষয়ে রামেক হাসপাতাল পরিচালক জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় রামেক হাসপাতালে নতুন ভর্তি হয়েছেন ৫৬ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪৫ জন। রামেক হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত হয়ে ২৫১ জন এবং সন্দেহভাজন ও উপসর্গ নিয়ে ২৫৬ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় রামেক হাসপাতালে ৪৫৪টি শয্যার বিপরীতে রোগী ভর্তি ছিলেন ৫০৭ জন।

দু’ল্যাবে করোনা পরীক্ষা ও শনাক্তের বিষয়ে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় রামেক হাসপাতাল ল্যাবের পিসিআর মেশিনে ২৮২টি নমুনা পরীক্ষায় ৮২ জনের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে।

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ ল্যাবের পিসিআর মেশিনে ৪৭০টি নমুনা পরীক্ষায় ৯৪ জনের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে। মোট পরীক্ষা হয়েছে ৭৫২টি। এতে শনাক্ত হয়েছে ১৭৬ জন। পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ২৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ।

এদিকে, সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রামেক হাসপাতালের করোনা ইউনিটে চলতি মাসের প্রথম ১৫ দিনে ২৬৭ জনের মৃত্যু হলো। এছাড়া গত জুনে মারা গেছেন ৪০৫ জন।