চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে হত্যার গুজব ছড়িয়ে এক ব্যক্তির ওপর হামলা হয়। তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছে পুলিশ। এতে পুলিশসহ পাঁচজন আহত হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশের কাজে বাধা ও হামলার অভিযোগে দেড়শ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। বুধবার ওই মামলায় ছয়জনকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন- কুমিল্লা জেলার মনোহরগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর সর্দার বাড়ির কামাল সর্দারের ছেলে জামাল হোসেন (৩০), শাহরাস্তি উপজেলার রায়েরবাগ হাজী বাড়ির মো: মনির হোসেনের ছেলে আমির হোসেন (৩৭), মনোহরগঞ্জ উপজেলার শরিফপুর গ্রামের আবুল কালামের ছেলে ওমর ফারুক (২৫), রায়েরবাগ হাজী বাড়ির মনির হোসেনের ছেলে মো: রাজু (২২), মনোহরগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর গ্রামের আবুল কালামের ছেলে তুহিন (২০) ও রায়েরবাগ গ্রামের মনির হোসেনের ছেলে (২৬) রুবেল।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার চিতোষী পূর্ব ইউনিয়নের বেততলা গ্রামের শাহ আলমের মাছের ঘের নিয়ে একই এলাকার আহসান হাবিবের ছেলে শুক্কুরের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে শুক্কুর ক্ষিপ্ত হয়ে শাহ আলমের ছেলেদের ওপর হামলা করে। এতে শাহ আলমের ছেলে মিনহাজ (১৪), পলাশ (২২) ও নজরুল ইসলাম (১৮) আহত হয়। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে।

ওই ঘটনার পর মিনহাজ মারা গেছে- এমন গুজবে এলাকার একদল লোক ক্ষিপ্ত হয়ে শুক্কুরকে আটক করে মারধর করে। খবর পেয়ে শাহরাস্তি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শুক্কুরকে উদ্ধার করে। ওই সময় একদল লোক পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট পাটকেল ছুঁড়ে শুক্কুরকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা চালায়। ওই সময় পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আরিফুল হাসানসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। দীর্ঘ সময় পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে পুলিশ আহত আরিফুল হাসান ও শুক্কুরকে উদ্ধার করে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়।

এ ঘটনায় বুধবার সকালে শাহরাস্তি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ কামাল হোসেন পুলিশের কাজে বাধা ও হামলার অভিযোগে ২৭ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো দেড় শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে।

থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: আ: মান্নান জানান, মিথ্যা গুজব রটিয়ে এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্ন সৃষ্টি করতে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। ছয়জন আসামি গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদেরকেও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।