সময় তখন বিকেল ৩টা বেজে ১৪ মিনিট। আইসিইউ বেডের করোনা রোগীদের নিয়ে ব্যস্ত চিকিৎসক ও নার্সরা। হঠাৎ আগুন আগুন বলে চিৎকার-চেচামেচির আওয়াজ। মুহূর্তেই ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায় পুরো ওয়ার্ড। শুরু হয় ছোটাছুটি। রোগীরা নিজেদের জীবন বাঁচাতে যে যার মতো অক্সিজেন-ক্যানোলা নিয়েই বাইরে চলে আসেন। হুইসেল বাজিয়ে দ্রুত হাসপাতালে ছুটে আসে ফায়ার সার্ভিস। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো হাসপাতালে। এই ছিল বৃহষ্পতিবার বিকেলে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের অবস্থা।
বৃহষ্পতিবার বিকেল ৩টা ১৪মিনিটে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটের আইসিইউ ওয়ার্ডে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। হাইফ্লো নেজাল ক্যানোলা থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আগুন লাগার কিছুক্ষণের মধ্যেই তা নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিস।
অগ্নিকাণ্ডে কোনো রোগীর ক্ষতি না হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আইসিইউ ওয়ার্ড। কবে নাগাদ এই ওয়ার্ডে পুনরায় চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করা যাবে তা এখনি বলা যাচ্ছে না। তবে দ্রুত এখানকার চিকিৎসা কার্যক্রম স্বাভাবিক করার কাজ শুরু হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
টাঙ্গাইল ফারার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক রেজাউল করিম বলেন, আমরা খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে আসি। মাত্র দু’মিনিটের মধ্যে আগুণ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হই। তবে সব মিলিয়ে আমাদের পনের মিনিট সময় লেগে যায় পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হাইফ্লো নেজাল ক্যানোলা থেকে আগুনের সূত্রপাত।
সরেজমিনে দেখা যায়, করোনা রোগীদের নিয়ে তাদের স্বজনরা এই ওয়ার্ডের আশেপাশে যারা যেখানে পারছেন সেখানে অবস্থান করছেন। কাউকে ঘাসের উপর শুইয়ে রাখা হয়েছে। আবার কেউ আছেন হুইল চেয়ারে। অক্সিজেন সিলিন্ডারসহই তাদের বাইরে নিয়ে আসা হয়েছে। প্রচণ্ড গরম সামলাতে হাত পাখা দিয়ে বাতাস করা হচ্ছে রোগীদের। কেউ আবার অ্যাম্বুলেন্স এনে রোগীদের সরিয়ে নিচ্ছেন। এর মধ্যে শুরু হয় বৃষ্টি। এতে আরো ভোগান্তিতে পড়তে হয় রোগী ও স্বজনদের।
চিকিৎসকরা জানান, হাসপাতালে দীর্ঘ দিন আগে বিদ্যুতের ওয়ারিং করা হয়েছিল। পরে আর কোনো সংস্কার কাজ করা হয়নি। এর মধ্যেই হাসপাতালের আইসিইউ ওয়ার্ড চালু করা হয়।
২৫০ শয্যাবিশিষ্ট টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা: শফিকুল ইসলাম সজিব বলেন, ঘটনার সময় আমি একটি মিটিংয়ে ছিলাম। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে আগুনের ধোঁয়া দেখতে পাই। সাথে সাথে আইসিইউ ওয়ার্ডের রোগীদের বাইরে বের করে আনা হয়। আগুনে ওয়ার্ডটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন রোগীদের আরেকটি ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ড. মো: আতাউল গণি।
তিনি বলেন, আগুনের ঘটনায় কোনো ক্ষতি হয়নি। আইসিউ ওয়ার্ডে দশজন রোগী ছিল। আমরা তাদের দ্রুত সরাতে সক্ষম হয়েছি। এ ঘটনায় আমরা পাঁচসদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। তিন দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে।
টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা: আবুল ফজল মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন বলেন, রোগীদের সরিয়ে দ্রুত আরেক ওয়ার্ডে স্থানান্তর করে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এখন আইসিইউ বন্ধ রয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব আইসিইউ ওয়ার্ড প্রস্তুত করা হবে।
খবর পেয়ে টাঙ্গাইল সদর আসনের এমপি আলহাজ মো: ছানোয়ার হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।









