বিভিন্ন প্রতিকুলতা পেরিয়ে ঈদ উপলক্ষে বরাবরের ন্যায় এবারো বাড়ি ফিরছেন মানুষ। দীর্ঘ লকডাউনের পর ছুটি পাওয়ায় এবার রাস্তায় ঘরমুখো মানুষের চাপ গত বছরের চেয়ে বেশি।

ঈদকে সামনে রেখে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে যানবাহনের সংখ্যা বেড়েছে কয়েকগুণ। এজন্য গাড়িগুলোও চলছে ধীর গতিতে। এছাড়া বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্বপাড়ে তিন ঘণ্টা টোল আদায় বন্ধ ছিল। এজন্য শনিবার ভোররাতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন ঈদে ঘরমুখো মানুষ। তবে বেলা বাড়ার সাথে সাথে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে থাকে।

শনিবার সকালে টাঙ্গাইল শহর বাইপাসের ঘারিন্দা, রাবনা ও এলেঙ্গায় সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কে যানবাহনের প্রচুর চাপ। গাড়ি একটার পেছনে আরেকটা যেন লেগেই আছে। বাসের চেয়ে ট্রাক, পিকআপ ও ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা বেশি। করোনাভাইরাসের ঝুঁকি উপেক্ষা করে নারী-পুরুষ গাদাগাদি করে ট্রাক ও পিকআপে চড়ে বাড়ি ফিরছেন। রাস্তায় প্রচুর মোটরসাইকেলও চলতে দেখা গেছে। অন্যান্য যানবাহনের সাথে যোগ হয়েছে রাজধানীমুখী গরুবোঝাই ট্রাক। গত কয়েক দিন ধরে মহাসড়কে খণ্ড খণ্ড যানজট হচ্ছে। যানবাহনের ধীর গতি আর ক্ষণে ক্ষণে যানজটের কবলে পড়ে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন যাত্রী সাধারণ।

বেলা সাড়ে ১০টায় ঘারিন্দা বাইপাসে দায়িত্ব পালন করছিলেন টাঙ্গাইল ডিবি পুলিশের এস আই রিপন। ঈদের সময় রাস্তায় যানবাহনের প্রচুর চাপ থাকে। তাই যানজট নিরসনে ইউনিফর্মে তাকে এখানে ডিউটিতে পাঠানো হয়েছে বলে তিনি জানান।

নয়া দিগন্তকে তিনি বলেন, সকাল ৬টা থেকে এখানে আছি। রাস্তায় গাড়ির প্রচুর চাপ থাকায় সকাল ৮টার পর এখানে থেমে থেমে যানজটের সৃষ্টি হয়। ১০টার পর থেকে আর যানজট নেই। তবে ধীরগতি আছে।

ঢাকা থেকে পিকআপে চড়ে সিরাজগঞ্জে বাড়ি ফিরছিলেন একটি পরিবার। তাদের মধ্যে সাইফুল ইসলাম নামে একজন জানান, ঠিকমত বাস পাইনি। তাই বাধ্য হয়ে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে পিকআপে চড়ে বাড়ি যাচ্ছি। কী আর করার। কুরাবাণীর ঈদ। বাড়িতো যেতেই হবে। তবে কষ্ট হলেও বাড়ি ফিরতে পারছি বলে ভালো লাগছে।

এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো: ইয়াসির আরাফাত নয়া দিগন্তকে বলেন, মহাসড়কে গাড়ির প্রচুর চাপ রয়েছে। তাই গাড়িগুলো স্বাভাবিক গতিতে চলতে পারছে না। ধীর গতিতে গাড়ি চলাচল করলেও কোথাও তেমন যানজট নেই। তবে শুক্রবার রাত ২টার পর বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্বপাড়ের টোলপ্লাজায় তিন ঘণ্টা টোল আদায় বন্ধ ছিল। এজন্য শনিবার ভোররাতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। সকালে বেলা বাড়ার সাথে সাথে যানচলাচল স্বাভাবিক হতে থাকে।

তিনি বলেন, মহাসড়কটি ঢাকা থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত চার লেন। কিন্তু এলেঙ্গা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত দুই লেন। চার লেনের গাড়িগুলো যখন দুই লেনে প্রবেশ করছে তখনই সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। তবে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের ১০টি টিম নিরলসভাবে কাজ করছে।