মিরসরাইয়ে পুলিশের সহায়তায় লাকসাম থেকে ট্রেনে চট্টগ্রাম যাওয়ার পথে গত ৬ জুন নিখোঁজ হওয়া কিশোর মনির হোসেনকে (১৩) খুঁজে পেয়েছেন মা মনোয়ারা বেগম।
বৃহস্পতিবার (১২ জুন) দুপুরে ছেলেকে ফিরে পান তিনি।
জানা যায়, লাকসাম থেকে ট্রেনে চট্টগ্রাম যাওয়ার পথে গত ৬ জুন নিখোঁজ হয় কিশোর মনির হোসেন। সে নোয়াখালী জেলার কবিরহাট এলাকার সাহাব উদ্দিনের ছেলে। বর্তমানে মায়ের সাথে তারা চট্টগ্রাম নগরীরর আকবরশাহ এলাকায় থাকে। তার পরিবার বিভিন্ন থানা হয়ে মিরসরাই থানায় হাজির হলে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান ভিকটিমকে উদ্ধার করার জন্য নিজামপুর তদন্ত কেন্দ্রে পাঠান।
নিজামপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ জাহিদ আরমান বলেন, ‘মনির হোসেনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ এবং সর্বশেষ লোকেশন উপজেলার হাইতকান্দি ইউনিয়নের দমদমা এলাকায় দেখায়। পরবর্তীতে তাকে উদ্ধারের জন্য আমরা স্থানীয়ভাবে খোঁজাখুঁজি করি এবং নিজামপুর তদন্ত কেন্দ্রের পেইজ থেকে পোস্ট করি। ভিকটিমের আগের ছবি ব্যতীত আর কোনো ছবিও ছিল না। এসময় উপজেলার ১৫ নম্বর ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের শ্রমিকদলের সভাপতি সালাউদ্দিন ফোন করে জানান ছেলেটি তার ফার্মে গত চার দিন ধরে কাজ করছে। বর্তমানে তার হেফাজতে আছে। তিনি ছেলেটিকে আমাদের নিকট হাজির করলে তাকে তার মা মনোয়ারা বেগম এবং মামার নিকট জিম্মায় প্রদান করি।’
তিনি আরো বলেন, ‘মনির হোসেনের ছয় মাস বয়সে তার বাবা তাদের ছেড়ে অন্যত্র চলে যান। গত ছয় বছর আগে তার মা পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। ছেলেটি ১৫ পারা কোরআনে হাফেজ। সে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণে পড়াশোনায় অমনোযোগী হয়ে পড়াশোনা আর শেষ করেনি। বিভিন্ন কারণে মায়ের ওপরও রাগ জমে থাকে তার। গত কিছুদিন আগে তার পরিবার তাকে লাকসামে একটি চাকার দোকানে এক হাজার টাকা বেতনে চাকরি দেয়। সেখানে পরিশ্রম এবং মজুরি নিয়ে তার সন্তুষ্টি ছিল না। ঈদের ছুটিতে মালিক তাকে চট্টগ্রামের একটি ট্রেনে তুলে দেয়। পথিমধ্যে সে ভুলবশত চিনকি আস্তানায় ট্রেন থেকে নেমে পড়ে। সেখানে পরিচয় হয় উপজেলার ১৫ নম্বর ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের শ্রমিকদলের সভাপতি সালা উদ্দিনের ফার্মে কর্মরত দুই ছেলের সাথে। তাদের সাথে সে এখানে ওয়াহেদপুর চলে আসে। তাকে জানায় তার বাবা নাই, মায়ের সাথে যোগাযোগ নাই। সেজন্য সালাউদ্দিন সহানুভূতি দেখিয়ে মাসিক ছয় হাজার টাকা বেতনে মনির হোসেনকে তার মুরগির ফার্মে চাকুরি দেন।’









