নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ থানায় অভিযোগ করায় কিশোরকে মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
রোববার বেলা ১১টার দিকে পুলিশ আলাইয়াপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হরিবল্লপুর গ্রামের অয়েদ আলির বাড়ির পশ্চিমের বাগান থেকে নিখোঁজের আট ঘণ্টা পর এক কিশোরের মাথায় গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
নিহতের নাম মো: রাশেদ (১৭)।তিনি উপজেলার ৪ নম্বর আলাইয়াপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের আলাইয়াপুর গ্রামের শেয়ার বাড়ি তাজুল ইসলামের ছেলে।
নিহতের মা পূর্ণিমা বেগম ও চাচাত ভাই আনোয়ার জানান, রাশেদ ঢাকাতে নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজ করত। লকডাউনের কারণে কিছু দিন আগে বাড়িতে আসে। গত পাঁচ থেকে ছয় দিন আগে রাশেদের সাথে একই বাড়ির বেচু মিয়ার ছেলে রুবেলের (৩০)বাড়ির সামনের রাস্তায় চোখে টর্চ লাইটের আলো পড়াকে কেন্দ্র করে ঝগড়া হয়। এ ঘটনায় রুবেলের সাথীরা রাশেদকে মারধর করে।
জানা যায়,এ ঘটনায় রাশেদের পরিবার বেগমগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করলে পুলিশ তদন্তে আসে। পুলিশ তদন্তে আসায় তারা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।পরে রুবেলের সহযোগী শাকিল, সুজন, আকবর, মারুফ, মঞ্জুসহ তাদের সাঙ্গপাঙ্গরা রাশেদের চাচা লোকমান হোসেনকে মারধর করে। সন্ত্রাসীরা রাশেদের চাচা লোকমানকে বলেন যে, থানায় অভিযোগ করেছ আমাদের বিরুদ্ধে? এখন আমাদের মামলা চালানোর খরচের টাকা দাও। এরপর শনিবার রাত ১০টা থেকে নিখোঁজ ছিল নিহত রাশেদ। পরে সকাল ৬টার দিকে স্থানীয়রা লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর নিহতের পরিবার দাবি, থানায় লিখিত অভিযোগ করায় একই বাড়ির বখাটে রুবেলের অস্ত্রধারী সাঙ্গপাঙ্গরাই রাশেদকে ধরে নিয়ে মাথায় গুলি করে হত্যা করেছে।
বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ কামরুজ্জামান সিকদার জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। রাশেদকে শনিবার দিবাগত রাতের যে কোনো এক সময়ে মাথায় গুলি করে হত্যা করে লাশ একটি বাগানে ফেলে দেয় খুনিরা। ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। পরে এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।









