- একাধিক সংস্থার গাফলতির অভিযোগ
- ২০ দফা সুপারিশ
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের হাসেম ফুডের সেজান জুস কারখানায় বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া অগ্নিকাণ্ডের জন্য একধিক সংস্থার অবহেলাকে দায়ি করেছে জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি।
২৮দিন তদন্ত শেষে গত বৃহস্পতিবার ৪৪ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে দাখিল করেছেন তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো: শামীম বেপারী।
রোববার বিকেলে জেলা প্রশাসনের একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
সূত্র জানায়, তদন্ত প্রতিবেদনে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়ে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে। কারখানার নিচ তলার সেন্ট্রাল রুমে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে বিভিন্ন ফ্লোরে তা ছড়িয়ে পড়ে।
তদন্ত প্রতিবেদনের অগ্নিকাণ্ডের জন্য বিভিন্ন সংস্থার অবেহলাকে দায়ি করা হয়। এবং প্রতিকারের জন্য ২০টি সুপারিশ করা হয়েছে। গাফলিতের জন্য দায়ি বিভিন্ন সংস্থার বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুপারিশ পাঠানোর কথা জানানো হয়।
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ জানান, কিছু কিছু বিভাগের গাফলতি ছিল। সংশ্লিষ্ট ওই দফতরগুলো যথাযথ মনিটরিং করেনি। তদন্ত প্রতিবেদনে এ বিষয়গুলো উঠে এসেছে। দুর্ঘটনার পর আমরা যখন সেখানে গিয়েছিলাম তখনো এ বিষয়গুলো জানাতে পেরেছি।
তিনি বলেন, প্রতিটি বিভাগ যদি সঠিক ভাবে কাজ করত তাহলে সেখানে শিশুশ্রম থাকত না। বিল্ডিং কোডে অসঙ্গতি থাকত না। ফায়ার সেফটি ব্যবস্থা পর্যাপ্ত থাকত। তাদের মনিটিরিংয়ে কমতি ছিল।
তিনি বলেন, এ বিষয়গুলো আমারা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে জানাবো। আমরা বিষয়গুলো কেবিনেটমিনিস্ট্রি, লেবার মিনিস্ট্রি এবং কর্নসান অথরিটিকে জানাবো। তারা এগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।
জেলা প্রশাসক জানান, তদন্ত প্রতিবেদনে ২০টি সুপারিশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সেখানে শিশু শ্রম ছিল, তা যেনো বন্ধ হয়। যারা মারা গেছে আইন অনুযাসারে তাদের পরিবারকে জনপ্রতি দু’লাখ টাকা এবং যারা আহত হয়েছে তাদের পরিবারকে জন প্রতি আড়াই লাখ টাকা যেন মালিক পক্ষ থেকে প্রদান করা হয়।
এছাড়া বিল্ডিং কোড মানা, আগুনে নেভানোর যন্ত্র যাতে আরো বেশী রাখা হয়, এবং প্রশিক্ষিত আগুন নেভানোর দল কারখানায় রাখার সুপারিশ করা হয় হয়।
গত ৮ জুলাই রূপগঞ্জের কর্ণগোপ এলাকায় সেজান জুস কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ৫২ জন নিহত হয়। এর মধ্যে ৪৮ জনের লাশ পুড়ে কংকাল হয়ে যায়। পরে ডিএনের মাধ্যমে লাশের পরিচয় সনাক্ত করে দু’দফায় ৪৫ জনের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকী তিনজনের লাশ এখনো সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
দুর্ঘটনার পর রুপগঞ্জ থানা পুলিশ একটি হত্যা মামলা করেন। ওই মামলায় হাসেম গ্রুপের চেয়ারম্যান ও তার চারছেলে এবং তিন কর্মকর্তাসহ মোট আটজন গ্রেফতার হয়।
এদের চার দিন রিমান্ড শেষে হাসেমের দু’সন্তানের জামিন এবং ছয়জনকের জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। পরে জেল থেকে ছাড়া পায় আবুল হাসেম ও তার দুই ছেলে। এখনো জেলে রয়েছে হাসেম গ্রুপের তিন কর্মকর্তা।
পুলিশের মামলাটি পরে সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়। এবং দুর্ঘটনার জন্য গঠিত হয় তিনটি তদন্ত কমিটি, যার একটি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আর দু’টি ফায়ার সার্ভিস ও কল-কারখানা অধিদফতরের পক্ষ থেকে করা হয়।









