যশোরের চৌগাছায় প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসীদের হামলায় উপজেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী সদস্য আওরঙ্গজেব চুন্নু (৬০) এবং পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হারুন অর রশীদ (৩৫) গুরুতর আহত হয়েছেন।

রোববার বিকেলে চৌগাছা-যশোর সড়কের সলুয়া ডিগ্রি কলেজের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহত দু’জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। আহত আওরঙ্গজেব চুন্নু চৌগাছা সদর ইউনিয়নের মন্মথপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং হারুন অর রশীদ পৌরসভার তারনিবাস গ্রামের বাসিন্দা।

আহত উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আওরঙ্গজেব চুন্নু জানান, আমার বড় ছেলে উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক শামীম রেজাকে শনিবার উপজেলা আওয়ামী লীগের আরেক নির্বাহী সদস্য জসিম উদ্দিনের একটি চাঁদাবাজি মামলায় গ্রেফতার করে পুলিশ।

রোববার তাকে যশোর আদালতে পাঠানো হয়। আমরা আদালতে তাকে দেখতে যাই। সেখান থেকে একটি মাইক্রোবাসে করে বাড়ি ফেরার পথে চৌগাছা-যশোর সড়কের সলুয়া ডিগ্রি কলেজের সামনে পৌঁছলে আমাদের পেছনে আসতে থাকা জসিম উদ্দিনের মাইক্রোটি আমাদের গাড়ির সামনে থামিয়ে দেয়। তখন ওই মাইক্রো থেকে নেমে আমার ছেলের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি মামলার বাদি ও চৌগাছা শহরে জসিম উদ্দিনের ফুডল্যান্ড রেস্টুরেন্টের ব্যবস্থাপক আবুল কালাম আজাদ এবং তার আরেক ভাই কামাল আমাদের গাড়ি থেকে বের করে নেয়ার চেষ্টা করে।

এ সময় ওই মাইক্রোর মধ্যে থেকে জসিম উদ্দিন বলেন, নেতাকে বের করে নিয়ে আয়। এরপর তারা আমাদের দু’জনকে গাড়ি থেকে বের করে লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মক আহত করে ফেলে রেখে যায়। ভয়ে কেউ আমাদের উদ্ধার করেনি। পরে যশোর থেকে চৌগাছার দিকে আসা যশোর হাসপাতালের একজন স্টাফ আমাদের উদ্ধার করে একটি ভ্যানে করে চৌগাছা উপজেলা সরকারি মডেল হাসপাতালে নিয়ে আসেন।

চুন্নু জানান, আমার দু’পা, দুই হাত ও পিঠে লোহার রড হাতুড়ি ও ধারালো জাতীয় কিছু দিয়ে বেদম প্রহার করে তারা। আমি দু’পা নাড়াতে পারছি না। আমার হাত ও পা ভেঙে গেছে।

হাসপাতালে দেখা যায় হারুন অর রশিদেরও হাত, পা ও পিঠে মারাত্মক জখমের চিহ্ন। তার হাত ও পায়ে ছিদ্র ছিদ্র হয়ে গেছে।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাজিন আহসান বলেন, তাদের মধ্যে বয়স্ক লোকটির অবস্থা বেশি খারাপ। দু’জনকেই উন্নত চিদকিৎসার জন্য যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। দু’জনেরই শরীরে ধারালো কিছুর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

তিনি জানান, তার শরীরের হার ভেঙে যেতে পারে। তবে পরীক্ষা ছাড়া কিছু বলা যাচ্ছে না।

আহতদের হাসপাতালে ভর্তির খবরে চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম সবুজ, পরিদর্শক (তদন্ত) গোলাম কিবরিয়াসহ পুলিশ কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিক হাসপাতালে যান। সেখানে তারা আহতদের পরিবারকে সহায়তা করবেন বলে জানান।

এ বিষয়ে ওসি সাইফুল ইসলাম সবুজ বলেন, অপরাধী যেই হোক ছাড় দেয়া হবে না। ঘটনার তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেফতার করে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেফতারে অভিযান শুরুকরা হয়েছে।