তিন দিনের টানা বৃষ্টিতে মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের মতলব উত্তর উপজেলায় ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় হাঁটুপানিতে ডুবে গেছে সড়ক। অলিগলি ও বাড়িঘরে ঢুকে পড়েছে পানি। স্থানীয়দের চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। প্রবল বর্ষণে দীর্ঘ দিনের জলাবদ্ধতা সমস্যায় ফের ভোগান্তিতে পড়েছেন তারা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতি, শুক্র ও শনিবার রাতে মতলব উত্তর উপজেলায় টানা বৃষ্টিপাত হয়। বৃষ্টির পানিতে মতলব উত্তর উপজেলার দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের বিভিন্ন বিলের ফসলি জমি, মৎস্য ঘের, বনায়ন প্রকল্প, ঘরবাড়িসহ বিভিন্ন স্থান হাঁটুপানিতে তলিয়ে যায়। সড়কে পানি ওঠায় শত শত পরিবার পানিতে আটকা পড়ে। বন্ধ হয়ে যায় বিভিন্ন এলাকায় মানুষের স্বাভাবিক যাতায়াত।
মতলব উত্তর উপজেলার জোরখালী গ্রামের মাছ চাষি হাজী বাবুল হোসেন জানান, টানা বৃষ্টির কারণে ভেসে গেছে মাছের ছোট-বড় ঘের ও পুকুর। তলিয়ে গেছে বীজতলাসহ অন্যান্য ফসল। এতে স্থানীয় কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
মতলব উত্তর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও ইমামপুর পল্লীমঙ্গল উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সরকার আবুল কালাম আজাদ বলেন, মতলব উত্তর উপজেলার বেশির ভাগ নিচু এলাকা এখনো পানির নিচে। যত্রতত্র খালে জাল দিয়ে বেড়া দেয়া, অপরিকিল্পিত ঘরবাড়ি নির্মাণ ও সরকারি খালগুলো দখলের ফলে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতে নিচু এলাকা তলিয়ে গিয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।
মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গাজী শরীফুল হাসান জানান, বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাওয়া এলাকার পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার জন্য আমি পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছি।
মেঘনা ধনাগোদা পানি ব্যবস্থাপনা ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সরকার আলাউদ্দিন বলেন, আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে। অপরিকল্পিত বাড়িঘর নির্মাণ এবং কিছু লোক সরকারি খাল ও ক্যানেল দখল করে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করার কারণে বৃষ্টি এলেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে বলে তিনি জানান।





