পরকীয়া সম্পর্কের জেরে প্রথমে স্বামীকে তালাক দেন স্ত্রী তাছলিমা বেগম। এরপর যৌতুকের মামলা দিয়ে ৭ দিন জেল খাটান স্বামীকে। জামিনে বের হয়েও শেষ রক্ষা হয়নি স্বামী মামুন খানের (৩০)। জামিনের ছয় দিনের মাথায় রক্তাক্ত লাশ পওয়া যায় মামুনের। গত ২০ জুলাই ঘটনাটি ঘটে মাদারীপুর সদর উপজেলার পূরর্বরাস্তি গ্রামে।

এ ঘটনায় নিহতের মা রিজিয়া বেগম সদর মডেল থানায় লিখিতভাবে হত্যার অভিযোগ করলেও পুলিশ মামলা নেয়নি। এর কারণে নিহতের মা মাদারীপুর চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে আদালত মামলার বিষয়ে সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কোনো ব্যবস্থা নিয়েছে কি-না তা জানাতে আদেশ দেন।

মঙ্গলবার দুপুরে আইনজীবি সমিতিতে এক প্রেস ব্রিফিং করে রিজিয়া বেগমসহ মামলার বাদিপক্ষের আইনজীবি হাওলাদার মিজানুর রহমান ও মো: জাফর আলী মিয়া এ তথ্য জানান।

মামলার নথি ও প্রেসব্রিফিং সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার রাস্তি গ্রামের আ: রশিদ খানের ছেলে মামুন খান প্রেমের সূত্র ধরে একই গ্রামের মান্নান সরদারের মেয়ে তাছলিমা বেগমকে ২০১৫ সালে বিয়ে করেন। বিয়ের পর স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমের কারণে দাম্পত্য কলহ সৃষ্টি হয়। পরে ২০২০ সালের ১৫ ডিসেম্বর স্বামী মামুন খানকে তালাক দেন স্ত্রী তাছলিমা। স্বামীর প্রতি আক্রোশের কারণে যৌতুক দাবির অভিযোগ তুলে চলতি বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি তাছলিমা চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা করলে পুলিশ ৮ জুলাই মামুন খানকে গ্রেফতার করে। পরে আদালত ১৫ জুলাই মামুনকে জামিন দেন। এরপর স্ত্রী তাছলিমা ও তার অভিভাবকরা মীমাংসার কথা বলে মামুন খানকে ২০ জুলাই বাড়ি ডেকে নিয়ে যায়। পরদিন ২১ জুলাই বেলা ১২টার দিকে রক্তাক্ত ও শরীরের বিভিন্নস্থানে জখম অবস্থায় মামুনের লাশ যুব উন্নয়ন অধিদফতরের পশ্চিম মস্তফাপুর সড়কের পাশে পাওয়া যায়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালে পাঠায়। এ ঘটনায় নিহতের মা রিজিয়া বেগম মামুন খানের সাবেক স্ত্রী তাছলিমা বেগমসহ আরো কয়েকজনকে আসামি করে সদর মডেল থানায় লিখিতভাবে হত্যার অভিযোগ করলেও থানায় পুলিশ মামলা নেয়নি বলে অভিযোগ করেন।

নিহতের মা রিজিয়া বেগম বলেন, আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। আমি আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই।

মাদারীপুর সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুল ইসলাম মিঞা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে হত্যা মামলা করার জন্য কোনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি, হত্যা মামলা করবে বলে আমার সাথে পরামর্শ করে থানায় আর আসেনি মৃতের কোনো স্বজন।