এক দুই দিন করে চলে যাচ্ছে মাস-বছর। তবুও প্রতিক্ষার প্রহর শেষ হয় না রৌশন আরার। তিনি ফেনীর নিখোঁজ যুবদল নেতা মাহবুবুর রহমান রিপনের মা। দীর্ঘ প্রায় ৮ বছর ধরে ছেলে ফেরার অপেক্ষায় চোখের পানি ফেলছেন।

গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আন্তর্জাতিক দিবসে ফেনীতে মানববন্ধনে সোমবারও প্রতিবারের মতো ছেলের ছবি বুকে নিয়ে দাঁড়াতে দেখা যায় ষাটোর্ধ্ব এই নারীকে। সাথে পরিবারের অন্য সদস্যরাও ছিলো। রৌশন আরা ছেলের কথা বলে অঝোরে কাঁদলেন। তার কথা একটাই ‘আমার ছেলেকে ফিরিয়ে দেয়া হোক।’

গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে র্আন্তজাতিক দিবসে ফেনীতে মানববন্ধন ও সমাবেশের আয়োজন করে মানবাধিকার কর্মী ও গুমের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনরা। ‘গুম বন্ধ কর, গুমের শিকার ব্যক্তিদের ফিরিয়ে দাও’ শ্লোগানে গুম হওয়া ব্যাক্তির স্বজনদের সংগঠন মায়ের ডাক ও হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডারস নেটওয়ার্ক’র যৌথ আয়োজনে সকালে শহরের শহীদ শহীদুল্লা কায়সার সড়কে ওই কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি ছিলেন দৈনিক ফেনীর সময় সম্পাদক ও ‘সুশাসনের জন্য নাগরিক’-সুজন ফেনী জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন।

দিবসের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মায়ের ডাক ও হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডারস নেটওয়ার্ক’র কো-অর্ডিনেটর, অধিকার ফেনীর ফোকাল পারসন, দৈনিক মানবজমিন ও বিডি নিউজ জেলা প্রতিনিধি নাজমুল হক শামীম।

মানবাধিকার কর্মী তন্বী সোমের সঞ্চালনায় রিপনের মা রৌশন আরা বেগম ছাড়াও সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ইয়ুথ জার্নালিস্ট ফোরাম ফেনী শাখার সভাপতি ও দৈনিক অজেয় বাংলা নির্বাহী সম্পাদক শাহজালাল ভূঞা, গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী নসু, ফেনী লিও ক্লাবের প্রেসিডেন্ট মুরাদ হাসনাত রাফি, গুমের শিকার হওয়া যুবদল নেতা মাহবুবুর রহমান রিপনের বড় ভাই মাহফুজুর রহমান, মেঝ ভাই মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ।

এ সময় গুমের শিকার রিপনের চাচা ওহিদুর রহমান, রিপনের বড় মেয়ে ফারিয়া আক্তার নিশাত, ছোট মেয়ে ফাহিমা আক্তার নাওফি, সাংস্কৃতিক সংগঠক ও মানবাধিকার কর্মী কাজি ইকবাল আহমেদ পরান, বাংলাদেশ ফটোজার্নালিস্ট এসোসিয়েশন ফেনী জেলা শাখার সাবেক সভাপতি ও মানবাধিকার কর্মী মোস্তফা কামাল বুলবুল, মানবাধিকার কর্মী মোশাররফ হোসেন, শিক্ষক ও মানবাধিকার কর্মী আবদুস সালাম প্রমুখ অংশ নেন।

মানববন্ধনে মানবাধিকার কর্মী ও ভিকটিম পরিবারগুলোর স্বজনরা গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণ করে তাদেরকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার দাবি জানিয়ে বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে দেশের সকল নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের। সরকার আন্তরিক হলে দেশে গুম বন্ধ হবে এবং সকল নাগরিক নিরাপদে বসবাস করবে।’

২০১৪ সালের ২০ মার্চ ফেনী শহরের পাঠানবাড়ি এলাকার বাসা থেকে র‌্যাব পরিচয়ে রিপনকে তুলে নিয়ে যায়। এছাড়া বিগত এক যুগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে বিভিন্ন সময়ে গুমের শিকার হয়েছেন ফেনী শহর যুবদল নেতা মাহবুবুর রহমান রিপন, সদর উপজেলার লেমুয়া ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা মো: ইউসুফ, সোনাগাজীর চরচান্দিয়ার যুবলীগ নেতা সরওয়ার জাহান বাবুল, একই এলাকার যুবলীগ নেতা গাজি মিলন।