নোয়াখালী জেলা শহর মাইজদীতে আওয়ামী লীগের তিনটি গ্রুপের পাল্টাপাল্টি সমাবেশকে কেন্দ্র করে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। নোয়াখালী পৌরসভা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় ১৪৪ ধারা চলছে। এতে জেলায় অনেকটা থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ভোর ৬টা থেকে অতিরিক্ত র্যাব-পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সোমবার ভোর ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সদর উপজেলার মাইজদী শহর ও আশপাশ (মাইজদী, দত্তেরহাট, সোনাপুর) এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি ঘোষণা করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খান।
নোয়াখালী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খান জানান, ১৪৪ ধারা চলার সময় মাইজদী শহর ও আশপাশ (মাইজদী, দত্তেরহাট, সোনাপুর) এলাকায় মধ্যে ব্যক্তি, সংগঠন, রাজনৈতিক দল, গণজমায়েত, সভা, সমাবেশ, মিছিল, র্যালি, শোভাযাত্রা, যেকোনো ধরনের অনুষ্ঠান এবং রাজনৈতিক প্রচার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এসব এলাকায় চারজনের বেশি মানুষ জমায়েত হতে পারবে না।
তিনি আরো জানান, দুজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ১৬ জন র্যাব ও শতাধিক পুলিশ সদস্য নোয়াখালী পৌরসভা এলাকায় টহল দিচ্ছে। এছাড়াও উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। সকালে স্থানীয় এমপি একরামুল করিম চৌধুরী সমর্থিত নেকাকর্মীরা বিভিন্ন স্থানে জড়ো হওয়ার চেষ্টা করে পুলিশি বাধার মুখে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।
উল্লেখ্য, নোয়াখালীতে দলীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের ত্রিমুখী ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। এ সময় ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুজনকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন। তার আগে নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের ২০১৯ সালের ২০ নভেম্বর শহীদ ভুলু স্টেডিয়ামে সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ঘোষিত পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার দাবিতে রোববার বিকেলে নোয়াখালী-৪ আসনের এমপি একরামুল করিম চৌধুরীর পক্ষে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে এক বিশাল শোডাউন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান একেএম সামছুদ্দিন জেহান, শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল ওয়াদুদ পিন্টু, আবদুল মমিন বিএসসি, আতাউর রহমান নাছের, জেলা যুবলীগ আহবায়ক ইমন ভট্ট, যুগ্ম আহবায়ক একরামুল হক বিপ্লব প্রমুখ। একপর্যায়ে সমাবেশের শেষ পর্যায়ে পৌর বাজারের সামনের থেকে জিলা স্কুলের সামনে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শিহাব উদ্দিন শাহীনের সমর্থনে একটি মিছিল আসার চেষ্টা করলে এমপি সমর্থকদের ধাওয়া খেয়ে ব্যর্থ হয়ে ও পুলিশের তোপের মুখে তারা মফিজ প্লাজার দিকে চলে যায়। এ সময় বিক্ষুদ্ধরা ৩/৪টি মোটরসাইকেল ভাংচুর করে। এতে ১০ জন আহত হন।
এ সময় জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়সহ এমপি সমর্থকরা প্রধান সড়ক দখলে নেয়। পরে পৌর মেয়র শহিদ উল্যাহ খান সোহেলের সমর্থনে একটি মিছিল বের হয়ে প্রধান সড়কের দিকে যাওয়ার পথে এমপি সমর্থকরা বাধা দেয়। এতে দুই পক্ষের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয় ও পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং দুই পক্ষকে সরিয়ে দেয়। পরে তারা পৌরভবনে অবস্থান নেয়। পরে তিন পক্ষই সোমবার সমাবেশ আহ্বান করে। শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার্থে প্রশাসন সোমবার ভোর ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করে।









