নরসিংদীর মনোহরদীতে মুজিববর্ষে দেয়া প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘরে ফাটল দেখা দিয়েছে। উপজেলার খিদিরপুর ইউনিয়নের ডোমনমারা গ্রামে নির্মিত ঘরগুলোর কয়েকটিতে মেঝে, দেয়াল ও পিলারে ফাটল দেখা দিয়েছে। পিলারে ফাটলের কারণে ঘর ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন সুবিধাভোগীরা।
প্রতিটি ঘর তৈরিতে বরাদ্দ ছিল এক লাখ ৭১ হাজার টাকা। প্রথম পর্যায়ে নির্মিত এসব ঘর গত ২৩ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে উপকারভোগীদের মধ্যে হস্তান্তর করা হয়। সেমিপাকা দুই কক্ষ বিশিষ্ট এসব ঘরে একটি রান্নাঘর ও টয়লেট রয়েছে। কিন্তু নয় মাস না যেতেই ঘরগুলোতে ফাটল দেখা দিয়েছে। দু’টি ঘরের জানালা ভেঙে গেছে। ঘর তৈরিতে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ করেছেন বাসিন্দারা। প্রকল্পের দুই পাশে পানি জমে থাকে। পানি নিষ্কাশনের প্রয়োজনীয় ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ভেতরে আটকেপড়া বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। সেই সাথে বেড়ছে মশা, মাছি, সাপ, বিচ্ছুর উপদ্রব। ফলে চরম দূর্ভোগে পড়েছেন সেখানকার বাসিন্দারা।
এদিকে উপহারের ঘরগুলোর হস্তান্তরে নয় মাসে ১৪টি ঘরের মধ্যে ১১টিতে সুবিধাভোগী পরিবার উঠেছেন। এদের মধ্যে তিনটি ঘরের বাসিন্দারা নিয়মিত থাকেন না। মাঝে মধ্যে এসে কিছুক্ষণ অবস্থান করে আবার চলে যান। তিনটি ঘর একেবারেই তালাবদ্ধ দেখা গেছে।
এই প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ছিলেন তৎকালীন ইউএনও শাফিয়া আক্তার শিমু। কমিটির সদস্য সচিব ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মাহমুদা আক্তার। খিদিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান জামিল নির্মাণসামগ্রী সরবরাহ করে কাজ বাস্তবায়ন করেছেন।
উপকারভোগীরা অভিযোগ করে বলেন, ঘর পেয়ে আমরা খুশি। কিন্তু ঘরে নিম্নমানের ইট, বালু, সিমেন্ট ব্যবহার করেছেন সংশ্লিষ্টরা। কয়েকটি ঘরের মেঝে ও পিলার ফেটে গেছে। পিলারে ফাটলের কারণে আমরা ঘর ভেঙে পড়ার ভয়ে আছি। এসব ঘর বেশি দিন টিকবে না। এ ছাড়া অপেক্ষাকৃত নিচু জায়গায় ঘর করা হয়েছে বলেও তারা জানান। ১৪টি ঘরের মধ্যে পাঁচটি ঘরে টয়লেট নেই। যে টয়লেটগুলো রয়েছে সেগুলো মাত্র দুই-তিন ফুট গর্ত করা হয়েছে। নিচে চাকা না দিয়ে শুধু মাটির উপরে স্লøাব বসানো হয়েছে।
বাসিন্দারা বলেন, প্রশাসনের লোকজন আসার আগেই চেয়ারম্যান লোকজন পাঠিয়ে সমস্যার কথা বলতে নিষেধ করেন। তাছাড়া চেয়ারম্যানকে সমস্যার কথা জানালে তিনি বলেন, সরকার ঘর করে দিয়েছে সমস্যা আপনারা সমাধান করে নেন। জলাবদ্ধতা নিরসনে তার কাছে মাটি ভরাটের কথা বললেও কোনো কাজ হয়নি।
বাসিন্দা মিনা বেগম, কামরুল ইসলাম, সালমা বলেন, কোনোটির পিলার ফেটে গেছে, কোনোটির মেঝে ফেটেছে আবার কোনোটির দেয়ালে ফাটল ধরেছে। আমরা দুশ্চিন্তায় আছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে সংস্কার না করলে দুর্ঘটনা ঘটবে। তিনি বলেন, কম সিমেন্ট দিয়ে ঘর তৈরি করা হয়েছে। এ জন্য সব ঘরে ফাটল ধরেছে। ছয় মাসও গেল না।
খিদিরপুর ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান জামিল বলেন, নতুন মাটি ভরাট করার কারণে কয়েকটি ঘরের পিলারে ফাটল দেখা দিয়েছে। তাছাড়া টয়লেট সমস্যার বিষয়টি আমার জানা নেই।
ইউএনও এ এস এম কাসেম বলেন, ‘ঘরগুলো পরিদর্শন করে শিগগিরই সমস্যার সমাধান করা হবে।’