খুলনায় চাঞ্চল্যকর সাড়ে ২২ কোটি টাকা মূল্যের কোকেন উদ্ধার মামলায় এক আসামির মৃত্যুদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানার রায় দিয়েছেন খুলনার জেলা ও দায়রা জজ মশিউর রহমান চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার ঘোষিত রায়ে আর একজনকে আমৃত্যু কারাদণ্ড, একজনকে ১৫ বছর এবং তিনজনকে দশ বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

রায় অনুযায়ী, বিকাশ চন্দ্র বিশ্বাসের মৃত্যুদণ্ড এবং আমৃত্যু কারাদণ্ড হয়েছে সোহেল রানার। ছগিরের ১৫ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ জরিমানা ও অনাদায়ে ২ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়।

এ ছাড়া বিকাশ চন্দ্র মন্ডল, এরশাদ ও ফজলুর রহমান ফকিরকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২৫ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরো এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ১১ আগস্ট রাত পৌনে ১০টার দিকে খুলনাস্থ র‌্যাব-৬-এর একটি টিম নগরীর হাদিস পার্কের সামনে অবস্থান নেয়। ময়লাপোতা মোড়ের পাশে একটি চক্র মাদক বিকিকিনি করছে মর্মে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা সেখানে উপস্থিত হলে কয়েকজন লোক পালানোর চেষ্টা করে। তখন সোহেল রানা নামের এক ব্যক্তিকে আটক করতে সক্ষম হন র‌্যাব কর্মকর্তারা। পালানোর কারণ জানতে চাইলে সোহেল জানায়, তার কাছে কোকেন আছে। র‌্যাব কর্মকর্তারা সেখান থেকে ২ শ’ ৩০ গ্রাম কোকেন উদ্ধার করেন। যার অনুমানিক মূল্য দুই কোটি ৩০ লাখ টাকা। পরে সোহেলের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব সদস্যরা গগনবাবু রোডের একটি বাড়ি থেকে কোকেন বিক্রির মূল হোতা আরিফুর রহমান ছগিরকে গ্রেফতার করেন। ছগিরের দেয়া তথ্য মোতাবেক দাকোপ উপজেলায় রাত ৩টার দিকে অভিযান চালিয়ে বিকাশ চন্দ্র মন্ডল ও ফজলুর রহমান ফকিরকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী টুটপাড়ায় অভিযান চালিয়ে এস এম এরশাদ আলীকে এবং এরপর রূপসা উপজেলার রাজাপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিকাশ চন্দ্র বিশ্বাসকে তিন প্যাকেট কোকেনসহ গ্রেফতার করে। ওই দুই প্যাকেটে প্রায় ২২ কেটি ৫০ লাখ টাকা দুই কেজি ২০ গ্রাম কোকেন পাওয়া যায়।

এ ব্যাপারে র‌্যাব কর্মকর্তা মো: রবিউল ইসলাম ছয়জনের নাম উল্লেখ করে রূপসা থানায় মাদক আইনে মামলা দায়ের করেন।