পটুয়াখালীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অর্ধশতাধিক দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ভোররাতে পৌর শহরের নিউ মার্কেটের চালের আড়ত পট্টিতে এ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে পটুয়াখালী, বারেকগঞ্জ, কলাপাড়া ও বরগুনা থেকে ফায়ার সার্ভিসের ৬টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টা প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে প্রায় ১০ কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দাবি। আগুনের সূত্রপাত বিদ্যুতের শর্টসার্কিট হয়েছে বলে ধারণা করছেন ফায়ার সার্ভিস। আগুনে পুড়ে যাওয়ার মধ্যে অধিকাংশ চালের আড়ত, মুদি দোকান, চায়ের দোকান, রঙের ও বিভিন্ন মেশিনের দোকান ছিল। সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পুলিশ সুপার সদর ইউএনওসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
নিউ মার্কেটের চাল ব্যবসায়ী জহিরুল ইসলাম জানান, আমরা এখানে কেউ ছিলাম না। যখন আগুন লেগেছে তখন সবাই ঘুম ছিলাম। মানুষে দেখার আগেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আমার দোকানে প্রায় এক হাজার বস্তা চাল ছিল সব পুড়ে গেছে। আমার কিছুই নাই আমি এখন নিঃস্ব হয়ে দাঁড়িয়ে আছি। অপর এক চাল ব্যবসায়ী বলেন, রাত ১২টার সময়ও মার্কেটে ছিলাম তখন সব ঠিক ছিল। আগুন লেগেছে রাত ২টার দিকে। সময় মতো ফায়ারসার্ভিস আসেনি। এতে আগুনে আমাদের শতাধিক দোকান পুড়ে গেছে বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
পটুয়াখালী ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মো: জাকির হোসেন বলেন, বাজারের উত্তর পাশ থেকে আগুন লেগেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত সাপেক্ষে বলা যাবে। তিনি আরো বলেন, রাত ৪টা ৪৫ মিনিটে জাতীয় জরুরি সেবা-৯৯৯ নম্বর থেকে আমাদের কাছে কল আসে। তার পরে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করি। অবস্থা ভয়াবহ দেখে বারেকগঞ্জ, আমতলী ও কলাপাড়া ফায়ার স্টেশনে খবর দিয়েছি। এতে ফায়ার সার্ভিসের ৬টি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে ১ ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
পটুয়াখালী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, ফায়ার সার্ভিসের ৬টি ইউনিট ও স্থানীয় জনগণ মিলে একসাথে কাজ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে।
নিউ মার্কেট চালের বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৫৪টি দোকান পুড়ে ছাই। ১০ কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন নিউ মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো: শাহজালাল খান। সদর উপজেলা ইউএনও জান্নাত আরা নাহিদ জানান, পিআইওকে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুনে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করা হয়েছে। ক্ষতির পরিমাণ ধরা হয়েছে প্রায় ৮ কোটি টাকা।