বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় জমির ফলবান টমেটো গাছ স্ট্রোক করে মারা যাচ্ছে। কোনো বালাইনাশকেই এ মৃত্যু রোধ হচ্ছে না। ফলে চাষিরা দিশেহারা। কৃষিবিদরা জানিয়েছেন এটি মাটিবাহিত ব্যাক্টেরিয়া সংক্রান্ত রোগ। এ রোগে গাছের শেকড় একেবারেই নষ্ট হয়ে যায়। টমেটোর চারা লাগানোর আগে চাষিরা ভালো করে মাটি পরিশোধন না করায় ক্ষেতে মহামারী আকারে স্ট্রোক রোগ ছড়িয়ে পড়ে।
উপজেলার খড়মখালী গ্রামের টমেটো চাষি হাফিজুল করিম বলেন, টাকা ধার নিয়ে জমিতে সাড়ে চার হাজার টমেটো গাছ লাগিয়েছিলাম। কঠোর পরিশ্রম ও পরিচর্যায় গাছগুলোতে প্রচুর টমেটোও ধরেছিল। আশা ছিল এ বছর টমেটো বিক্রি করে সব ধারদেনা পরিশোধ করব। হঠাৎ ফলবান টমেটো গাছ স্ট্রোক করে মারা যাচ্ছে। এখন ঋণের টাকা তো দূরের কথা, পরিবারপরিজন নিয়ে বাঁচাটা দুরূহ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা (খড়মখালী-ডাকাতিয়া ব্লকের দায়িত্বপ্রাপ্ত) অলোককুমার মণ্ডল বলেন, যে সব ক্ষেতে স্ট্রোকে গাছ মারা যাচ্ছে সেগুলোতে আমরা কাজ করছি।
চিতলমারী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকতা অসীমকুমার দাস বলেন, গত বছরও এখানে স্ট্রোক রোগ দেখা দিয়েছিল। তখন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও কৃষিবিদরা এ উপজেলার টমেটো গাছ নিয়ে ব্যাপক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়েছেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তারা জানিয়েছেন এই স্ট্রোক একটি মাটিবাহিত ব্যাক্টেরিয়া সংক্রমণ রোগ। এ রোগ গাছের শেকড় একেবারে নষ্ট করে ফেলে। টমেটোর চারা লাগানোর আগে চাষিরা ভালো করে মাটি পরিশোধন না করার কারণেই জমিতে মহামারী আকারে স্ট্রোক রোগ ছড়িয়ে পড়ে। এ ছাড়া ব্যাক্টেরিয়া আক্রান্ত এই জমিতে তিন থেকে চার বছরের মধ্যে টমেটোজাতীয় গাছ লাগানো যাবে না। কিন্তু চাষিরা আমাদের পরামর্শ মানছে না।