গ্রেফতার হওয়া নোয়াখালী জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি ফয়সাল ইনাম কমল (৩৯) চৌমুহনীতে পুজামণ্ডপ ভাঙচুরসহ সহিংস ঘটনায় বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্যা বুলুসহ ১৫ জনের সম্পৃক্ততার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন। নোয়াখালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মোহাম্মদ সাঈদীন নাঁহীর আদালতে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
নোয়াখালী পুলিশ সুপার শহীদুল ইসলাম বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে সোমবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ফয়সাল ইনাম কমলকে কুমিল্লা জেলার পূজা মন্ডপে কোরআন শরীফ রাখার ভিডিও আপলোড করাসহ অন্যান্য উস্কানিমূলক পোষ্ট তার ফেসবুকে পোষ্ট করে এবং বিভিন্নজনকে শেয়ার করায় তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সে সহ অন্যান্য আসামিকে রুজুকৃত বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে বিচারিক আদালতে সোপর্দ করা হবে।
গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছেন নোয়াখালী জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের সহসভাপতি ফয়সাল ইনাম কমল (৩৯), বীজবাগ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হারুন অর রশীদ (৪৮), জেলা যুবদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ রায়হান (৩৮), পূর্ব চরমটুয়া ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক ফয়সাল বারী চৌধুরী (৪৫), পূর্ব চর মটুয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সদস্য সচিব বেলায়েত হোসেন (২৬), বেগমগঞ্জের কালিকাপুর গ্রামের মৃত হাজী মফিজ উল্যার ছেলে মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম (২৯), আলীপুর গ্রামের মৃত আবুল খায়েরের ছেলে মোঃ আবু তালেব (৪৭), হাজীপুর গ্রামের মৃত সৈয়দ আহম্মদের ছেলে মোঃ ফরহাদ (২৭), আবদুল বাকী শামীম, কোম্পানীগঞ্জের মিন্টু (২৩), চাটখিলের পারভেজ হোসেন (২৯) ও সোনাইমুড়ীর আব্দুল বারেক (৫৫)।
গত ১৫ সেপ্টেম্বর শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে বিভিন্ন মসজিদ থেকে চৌমুহনীতে মুসিল্লিরা মিছিল বের করে। এ সময় চৌমুহনী কলেজ রোডে হিন্দুরা ৫/৬ জন মুসলিম তরুণকে পিটিয়ে আহত করে মর্মে খবর আসে। এ সময় মুসিল্লিরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে এবং এক পর্যায়ে তারা চৌমুহনী কলেজ রোডসহ বিভিন্ন পূজা মণ্ডপে হামলা চালায় । এ সময় চৌমুহনী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে যতন সাহা (৪২) নামের একজন অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তিনি কুমিল্লা জেলার গবিন্ধ পুর গ্রামের মনোরঞ্চন সাহার ছেলে। তার মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যায়নি। তবে এলাবাসী জানান, আতঙ্কে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।
এক পর্যায়ে চৌমুহনী রেল গেইটে পুলিশ, আওয়ামী লীগ-যুবলীগ একত্রিত হয়ে মুসুল্লিদের ধাওয়া করলে উভয়ের মাঝে আবারো সংঘর্ষ সৃষ্টি হয়। এ সময় চৌমুহনী বাজার রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ সময় বেগমগঞ্জ থানার ওসি কামরুর জামান শিকদার, চার পুলিশসহ ২৫ জন আহত হন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ র্যাব বিজিবি ১০ রাউন্ড গুলি ও ছয় রাউন্ড কাদানি গ্যাস নিক্ষেপ করে। শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার্থে প্রশাসন নোয়াখালীর চৌমুহনীতে ১৪৪ ধারা জারি করেছে। বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুন নাহার শুক্রবার রাত ৯টায় এক প্রজ্ঞাপন জারি করেন। এতে বলা হয়, শনিবার ভোর ৬টা থেকে সন্ধা ৬টা পর্যন্ত জেলার প্রধান বাণিজ্য কেন্দ্র চৌমুহনী শহরে সকল প্রকাল সভা সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এ দিকে শনিবার নোয়াখালী-ফেনী আঞ্চলিক মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বলীরা নিহত এক ব্যক্তির লাশ সামনে রেখে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে। তার আগে শনিবার ভোরে চৌমুহনী ইসকন মন্দিরের পুকুর থেকে সুবেল চন্দ্র সাহা (২০) নামের এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে। তার বাড়ি চাটখিল উপজেলায়। তার মৃত্যুর কারণ জানা যায়নি।
পরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন। তিনি সনাতন ধর্মালম্বী নেতাদের সাথে কথা বলে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার আশ্বাস প্রদান করেন।
সহিংস ঘটনায় জেলায় মোট ২৬টি মামলা হয়। তার মধ্যে বেগমগঞ্জে ১১টি, হাতিয়ায় ১০টি, সোনাইমুড়ী থানায় ১টি, সেনবাগ থানায় ১টি, কবির হাট থানায় ১টি, কোম্পানিগঞ্জ থানায় ১টি, চাটখিল থানায় ১টি মামলা দায়ের করা হয়। এ ঘটনায় এই পর্যন্ত ১৯২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।









