নীলফামারীর সৈয়দপুরে মিনিবাসের ধাক্কায় অ্যাম্বুলেন্স চালকসহ ২ জন নিহত ও অন্তত ১৮ জন আহত হয়েছে। রোববার বেলা সাড়ে ৩টায় বাস টার্মিনালের অদূরে মরিয়ম চক্ষু হাসপাতালের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে একজন হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স চালক ও অন্যজন বাসযাত্রী। ফাহিম এন্টারপ্রাইজ নামের গেটলক মিনিবাস নিয়ন্ত্রণহীন হলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, রংপুর থেকে ঠাকুরগাঁও যাওয়ার পথে সৈয়দপুর টার্মিনাল ছেড়ে সামান্য এগিয়ে যেতেই মরিয়ম চক্ষু হাসপাতালের সামনে পৌঁছে হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স চালককে চাপা দেয় বাসটি। এতে ওই চালক ঘটনাস্থলেই মারা যান।
অবস্থা বেগতিক দেখে পালানোর চেষ্টা করেন ঘাতক বাসের চালক। বেপরোয়া গতিতে বাস চালানোর কারণে সামান্য দূরে গিয়েই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে উল্টে যায়। এতে এক বাসযাত্রী নিহতসহ প্রায় ১৮ জন আহত হয়েছেন।
এর মধ্যে গুরুতর আহত ৫ জনকে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। অন্যদের মরিয়ম চক্ষু হাসপাতালেই প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দেয়া হয়েছে।
নিহত অ্যাম্বুলেন্স চালকের নাম সহিদার ইসলাম (৪০)। তিনি সৈয়দপুর শহরের কয়ানিজপাড়ার বাসিন্দা ও রংপুরের বেতপাড়ার (পালপাড়ার) রমজান আলীর ছেলে। নিহত অপর বাসযাত্রী মনসুর আলী (৫৯) দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার পূর্ব মল্লিকপুরের ওমর আলীর ছেলে।
সৈয়দপুর ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স-এর উপ-সহকারী পরিচালক আমিরুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে সৈয়দপুর ও নীলফামারী ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ও সৈয়দপুর থানা পুলিশ উপস্থিত হয়ে উদ্ধার কাজ পরিচালনা করে।
এদিকে দুর্ঘটনার পরপরই মরিয়ম চক্ষু হাসপাতালের কর্মচারী ও এলাকার লোকজন এগিয়ে আসে। কিন্তু তার আগেই চালক ও হেলপার পালানোয় তারা ক্ষুব্ধ হয়ে সড়ক অবরোধ করেন। প্রায় ১ ঘণ্টাব্যাপী উদ্ধারকাজ ও অবরোধ অব্যাহত থাকায় সড়কের দু’ পাশে শতাধিক যানবাহন আটকে যায়। পরে পুলিশের পক্ষ থেকে পলাতক চালক ও হেলপারকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আটকের আশ্বাস দিলে বিক্ষুব্দ জনতা অবরোধ সরিয়ে নেয়।
সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি-তদন্ত) মো: খায়রুল আনাম জানান, ঘটনাস্থল থেকে ২ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে এবং আহতদের মধ্যে ৫ জনের হানপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।





