পরিবারের তিনি বড় সন্তান। তার রয়েছে সহোদর চার ভাই, সৎ তিন ভাই ও এক বোন। ছোট ভাইবোনদের তিনি কোলে পিঠে করে বড় করেছেন। ছোট সময় থেকেই বাবার সাথে ব্যবসার হাল ধরেন তিনি। পরিশ্রম করে পরিবারের জন্য গড়ে তুলেন বেশ কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। ভাইবোনদের করেছেন শিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় সেই বড় ভাই এখন পরিবারের সব থেকে বঞ্চিত। পৈতৃক বাড়িতে একটু জায়গা হয়নি ঘর তুলে থাকার।
বাবার সম্পত্তিতে ভোগ দখলের অধিকার চাইলে সৎ ভাই আলী হোসাইন খান পল্টু, আলী আহাম্মদ খান সেন্টু ও আলী মোহাম্মদ খান পিন্টু মিলে কয়েক দফা তাকে বেদম মারধর করেছে। এখন তারা ষড়যন্ত্র করছে বড় ভাইকে এলাকা থেকে তাড়ানোর।
ভুক্তভোগী এই বড় ভাইয়ের নাম আলী আকবর খান বাচ্ছু। ঘটনাটি কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার পৌরসদরের পশ্চিম নয়াকান্দি গ্রামে। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী আলী আকবর খান করিমগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। ফলে আরো ক্ষিপ্ত হয়ে যান ওই সৎ ভাইয়েরা।
এ পরিস্থিতিতে গতকাল বুধবার দুপুরে কিশোরগঞ্জ শহরের গৌরাঙ্গবাজারে ‘কিশোরগঞ্জ নিউজ’ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন আলী আকবর খান বাচ্চু। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি স্ত্রী-সন্তান নিয়ে নিরাপদে বাবার ভিটায় বসবাসের জন্য একটু জায়গা পেতে প্রশাসনসহ সবার সহযোগিতা চান। এ সময় তিনি সৎ ছোট ভাইদের দ্বারা নির্যাতন ষড়যন্ত্র ও মারধরের বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
থানার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ মার্চ আলী আকবর খান বাচ্চুর ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে চড়াও হন সৎ ভাই আলী হোসাইন খান পল্টু ও ছোট দুই সৎ ভাই।
সর্বশেষ গত ১৬ অক্টোবর রাতে পল্টুর নেতৃত্বে আবারো হামলার শিকার হন বাচ্চু। হামলা-মারধরে বাচ্চু ও তার স্ত্রী উম্মে কুলসুমকে আহত করে তার ফুফুর জায়গার ঘর থেকে সমুদয় আসবাবপত্র বাইরে ফেলে দেয়। বাড়ি থেকে তাকে উচ্ছেদের জন্য নানা পাঁয়তারা চালিয়ে যাচ্ছে পল্টু। নিজের আর কোনো জায়গাজমি বা আশ্রয়স্থল না থাকায় অসহায় পরিস্থিতিতে পড়েছেন আলী আকবর খান বাচ্চু। এ অবস্থায় চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে তিনি স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে দিন পার করছেন।
পরিবারের বড় ছেলে হওয়ার সুবাদে পারিবারিক ব্যবসার হাল ধরতে গিয়ে আলী আকবর খানকে পৈতৃক ভিটেমাটি ছেড়ে জীবনের বেশির ভাগ সময় কিশোরগঞ্জ জেলা শহরে ভাড়া বাসায় কাটাতে হয়েছে। এখন বাড়িতে অবস্থান করতে গিয়ে তিনি সৎ ভাই আলী হোসেন খান পল্টু ও অন্য দুই ভাইয়ের চক্ষুশূলে পরিণত হয়েছেন। বাবা আব্দুল সালাম খানের বয়স এখন ৯০ বছর। তিনি কাউকে কিছু বলতে পারছেন না।