দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে আলোচিত অজ্ঞাত রোগে গরু মারা যাওয়ার ঘটনায় প্রাণী সম্পদ অধিদফতরের চার সদস্যের অনুসন্ধানী দল ঘটনাস্থল পরির্দশন করেছেন। এদিকে আর্থিক সহায়তার দাবিতে উপজেলার বাসুদেবপুর এবং মহেশপুর গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা ঘন্টাব্যাপী বিক্ষোভ মিছিল এবং মানববন্ধন করেছে।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টায় বাসুদেবপুর গ্রামে তারা এই বিক্ষোভ মিছিল এবং মানববন্ধন করেন। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আবুল কালাম আজাদ, বাদশা হোসেন সরকার, সুলতান মাহমুদসহ অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা।
বক্তারা বলেন, গবাদি পশু হঠাৎ করে এই এলাকার ঘাস ও খড় খেয়ে বিষক্রিয়ায় অসুস্থ হয়ে মারা যাচ্ছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৩৫-৪০টি গবাদি পশু মারা গেছে। অনেকের গরু অসুস্থ হওয়ায় অল্প দামে বিক্রি করে দিচ্ছেন। এখন এই এলাকার অধিকাংশ কৃষকের গোয়াল প্রায় গরু শূন্য। সদ্য তোলা ধানের যে খড়গুলো রয়েছে সেগুলোও খাওয়াতে পারছেন না, বিক্রিও করতে পারছেন না। এতে আর্থিকভাবে চরম ক্ষতির মুখে কৃষকদের কি হবে? তাই দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং প্রশাসনের কাছে আর্থিক সহায়তার জোর দাবি জানিয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করছেন তার।
এদিকে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের প্রেক্ষিতে প্রাণীসম্পদ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে চার সদস্যের একটি রোগ অনুসন্ধান টিম গঠন করা হয়েছে। গঠিত টিমকে আক্রান্ত এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
আহব্বায়ক ডা. গোলাম আজম চৌধুরী (পিএসও)-এর ৪ সদস্যের অনুসন্ধানী টিম (৯ ডিসেম্বর) গত বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত দুই দিন ব্যাপী দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার আলাদীপুর ইউনিয়নের বাসুদেবপুর গ্রাম ও পাকড়ডাঙ্গা নামক স্থানের পরিত্যাক্ত ব্যাটারী কারখানা এবং বেতদিঘি ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রাম পরিদর্শন করে এলাকার ক্ষতিগ্রস্তদের সাথে কথা বলেন। সেই সাথে তারা ওই এলাকার ঘাস, খড়সহ বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করেন।
অনুসন্ধানী দলের আহব্বায়ক ডা. গোলাম আজম চৌধুরী (পিএসও) বলেন, আমরা বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করছি, ক্ষতিগ্রস্তদের সাথে কথা বলছি এবং ব্যাটারী কারখানা থেকে ছড়ানো বর্জসহ আশপাশের জমির ঘাস, খড়ের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। সেগুলো পরিক্ষা-নিরিক্ষার জন্য পাঠানো হবে। অনুসন্ধানের কাজ শেষ হলে বিস্তারিত জানা যাবে।





