বাগেরহাটের চিতলমারীতে লতিকা হালদার (৩৫) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। মৃত মহিলা উপজেলা সন্তোষপুর গ্রামের কানাই লাল মজুমদারের স্ত্রী ও একই উপজেলার চরবানিয়ারী উত্তরপাড়া গ্রামের যশমন্ত হালদারের বড় মেয়ে। লতিকার বাবার অভিযোগ- যৌতুকের জন্য মারধর করে শ্বশুরবাড়ির লোকজন বিষ খাইয়ে তার মেয়েকে হত্যা করেছে। লতিকার শ্বশুর বিবেকানন্দ মজুমদার বলেছেন পরিবারিক কলহের জেরে বিষ খেয়ে সে আত্মহত্যা করেছে। লতিকার ৫ বছর বয়সী একটি মেয়েসন্তান রয়েছে। এ ঘটনায় ওই গৃহবধূর বাবার বাড়ির এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
শনিবার দুপুরে লতিকার বাবা যশমন্ত হালদার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ২০১৪ সালে আমার বড় মেয়ে লতিকাকে সন্তোষপুর গ্রামের বিবেকানন্দ মজুমদারের ছোট ছেলে কানাই লাল মজুমদারের সাথে বিয়ে দিয়েছিলাম। বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন অজুহাতে জামাতা কানাই লাল এ পর্যন্ত প্রায় চার লাখ টাকা নিয়েছে। কয়েক দিন আগে কানাই মাইক্রোবাস কেনার জন্য আরো চার লাখ টাকা দাবি করে। এ টাকা নিতে লতিকা দু’দিন আগে আমাদের বাড়িতে আসে। তাকে অত টাকা একসাথে দিতে পারিনি। বলেছিলাম জমি বিক্রি করে পরে দেবো। এরপর লতিকা টাকা না নিয়েই শ্বশুরবাড়ি ফিরে যায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শুক্রবার দুপুরে কানাই লালসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে মারধর করে বিষ খাইয়ে দেয়। প্রথমে তাকে চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। এ দিন রাত সাড়ে ১১টায় সেখানে তার মৃত্যু হয়। আমি আমার মেয়ের হত্যার বিচার চাই।
লতিকার শ্বশুর বিবেকানন্দ মজুমদার বলেন, ইলিশ মাছ ও বোয়াল মাছ কাটা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ হয়। এ নিয়ে লতিকা বিষ পান করে। পরে হাসপাতালে নিলে সে মারা যায়।
এ ব্যাপারে চিতলমারী থানার ওসি (তদন্ত) ইকরাম হোসেন বলেন, লতিকার মৃত্যু খুলনা মেডিক্যাল কলেজে হয়েছে। ওখানে তার ময়নাতদন্ত হবে। অভিযোগ দিলে আমরা আপাতত অভিযোগ নেবো। প্রাথমিক তদন্তও চলবে। তবে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট আসার পর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বাবার অভিযোগ মারধর করে হত্যা শ্বশুর বলছেন আত্মহত্যা
বাগেরহাটের চিতলমারীতে লতিকা হালদার (৩৫) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। মৃত মহিলা উপজেলা সন্তোষপুর গ্রামের কানাই লাল মজুমদারের স্ত্রী ও একই উপজেলার চরবানিয়ারী উত্তরপাড়া গ্রামের...





