বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে উন্নত চিকিৎসার দাবিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শনিবার সমাবেশ ডেকেছিলো জেলা বিএনপি। অপরদিকে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে একইস্থানে ছাত্র সমাবেশ ডেকেছে জেলা ছাত্রলীগ।
এর জেরে শুক্রবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে শনিবার সকাল ৮টা থেকে ১৪৪ ধারা জারি করেছে জেলা প্রশাসন।
এর আগে শহরের ফুলবাড়িয়া কনভেনশন সেন্টার প্রাঙ্গনে শনিবার দুপুর ২টায় সমাবেশ ডেকেছিলো জেলা বিএনপি। এর বিপরীতে জেলা ছাত্রলীগ একই স্থানে শনিবার দুপুর ৩টায় সমাবেশ ডাকে।
বিএনপির পূর্ব নিধারিত সমাবেশস্থলে ছাত্রলীগের পাল্টা সমাবেশের কারণে শহরজুড়ে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এদিকে সমাবেশের একদিন আগেই শুক্রবার দুপুরে জেলা বিএনপির শীর্ষ তিন নেতাকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) এর সত্যতা স্বীকার করেছেন।
পুলিশ হেফাজতে নেয়া জেলা বিএনপির শীর্ষ তিন নেতা হলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান, আহবায়ক কমিটির সদস্য ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হক খোকন ও আহবায়ক কমিটির সদস্য ও সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ।
বিএনপির দলীয় সূত্র জানায়, গত এক সপ্তাহ আগে জেলা বিএনপি এই সমাবেশ আহবান করে। এতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা এমপি, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভুইয়া, উকিল আব্দুস সাত্তার ভূইয়া, কেন্দ্রীয় বিএনপি’র অর্থ বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামলসহ কেন্দ্রীয় বিএনপির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। এরই মধ্যে জেলা ছাত্রলীগও একই দিনে, একই স্থানে দুপুর ৩টায় ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ছাত্র সমাবেশের ডাক দেয়।
জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য ও সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম জানান, তাদের সমাবেশের জন্য শহরের ৩টি জায়গা নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে শহরের পৌর মুক্ত মঞ্চ, টেংকের পাড় (লোকনাথ দিঘীর) ও ফুলবাড়িয়া কনভেনশন সেন্টার এলাকাকে নির্ধারণ করা হয়। বিএনপির পক্ষ থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসককের নিকট অনুমতি চেয়ে চিঠি দেয়া হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে ফুলবাড়িয়া কনভেনশন সেন্টার এলাকায় সমাবেশ করার মৌখিক অনুমতি দেওয়া হয়। এর পরপরই তারা প্রচার প্রচারণা চালায়।
একই স্থানে দলীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ছাত্রলীগের সমাবেশের আহ্বানে শহরে ইতোমধ্যেই উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে।
জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল হোসেন রুবেল বলেন, ‘ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আমরা সেখানে ছাত্র সমাবেশের আহ্বান করেছি।’
সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. এমরানুল ইসলাম জানান, একই দিনে, একই স্থানে উভয় পক্ষ সমাবেশ ডাকায় জেলা প্রশাসক থেকে কোনো অনুমতি দেয়নি।
নেতাকর্মীদের আটক ও গ্রেফতার বিষয়ে তিনি বলেন, এই ব্যাপারে আমরা জানাচ্ছি। শহরে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অপরাধ ও প্রশাসন মোল্লা মোহাম্মদ শাহিন জানান, তিন নেতাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, এর আগেও জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সমাবেশ আহ্বান করা হয়। তবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের কারণে সে সময় সমাবেশ করতে পারেনি। ৫ জানুয়ারি পঞ্চম ধাপের ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর এই স্থানে সমাবেশ আহ্বান করে।









