মিয়ানমারের নিষিদ্ধ সশস্ত্র সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) প্রধান আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনি বর্তমানে মিয়ানমারের পাহাড়ে পালিয়ে আছেন। তার নির্দেশনায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চাঁদাবাজি ও নাশকতার পরিকল্পনায় সংঘবদ্ধ হয়েছিল আরসার একটি গ্রুপ। আতাউল্লাহর ভাই মো. শাহ আলী এই গ্রুপের নেতৃত্বে ছিলেন।
জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে তার কাছ থেকে এই তথ্য পাওয়া গেছে বলে সোমবার পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
এর আগে রোববার মো. শাহ আলীকে উখিয়া থেকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে শাহ আলী জানান, দেড় মাস ধরে উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও পাহাড়ে তার অনুসারীদের নিয়ে অবস্থান করছিলেন তিনি।
জিজ্ঞাসাবাদে আরসা প্রধান আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনির অবস্থান ও তার পরিকল্পনার কথা পুলিশকে জানিয়েছেন শাহ আলী। আতাউল্লাহ মিয়ানমারের যে পাহাড়ে পালিয়ে আছেন, ওই পাহাড়ের নামও জেনেছে পুলিশ। তবে এই বিষয়ে আরো জানার চেষ্টা চলছে।
পুলিশ জানতে পেরেছে, ওই পাহাড়ে বসেই বাংলাদেশ ও মিয়ানমারে থাকা আরসার বিভিন্ন গ্রুপকে নিয়ন্ত্রণ করছেন আতাউল্লাহ।
শাহ আলীকে ইতোমধ্যে পুলিশসহ বেশ কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।
একটি গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছেন, ‘শাহ আলী আরসার প্রধান আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনির ভাই। এ বিষয়ে আমরা নিশ্চিত হয়েছি। তিনি বাংলাদেশে থাকেন না। কোনো ক্যাম্পে স্থায়ীভাবে তাকে দেখা যায় না। তিনি অবৈধভাবে মিয়ানমার ও বাংলাদেশে আসা যাওয়ার মধ্যে থাকেন। দেড় মাস ধরে বাংলাদেশের বিভিন্ন পাহাড়ে তিনি পালিয়ে ছিলেন।’
গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, মিয়ানমারের সরকারি বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধের কথা বলে চাঁদাবাজি করে অর্থ আদায় করাই ছিলো শাহ আলীর অন্যতম দায়িত্ব। আরসা প্রধান আতাউল্লাহর সঙ্গে শাহ আলীর নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। শাহ আলী মিয়ানমারেই বেশি সময় থাকেন। বিশেষ ‘অ্যাসাইনমেন্ট’ নিয়ে বাংলাদেশে আসে। শাহ আলীকে অস্ত্র ও মাদকসহ রোববার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে উখিয়ার ৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নৌকার মাঠ এলাকা গ্রেফতার করা হয়।
গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, শাহ আলী ২০১৯ সালেও একবার গ্রেফতার হয়েছিলেন। এরপর বিভিন্ন এনজিও সংস্থার আইনি সহায়তায় মুক্তি পান তিনি। মুক্তি পেয়ে ফের অপরাধে জড়িয়ে পড়েন তিনি। এরপর প্রায় দেড় বছর তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিলো না। সর্বশেষ অপহৃত এক কিশোরকে উদ্ধার করতে গিয়ে পুলিশের বিশেষ ইউনিট এপিবিএন-১৪ সদস্যরা তাকে গ্রেফতার করে।
এপিবিএন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শাহ আলীকে আরো জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। ইতোমধ্যে তিনি কিছু তথ্য দিয়েছেন, যা যাচাই বাছাই করা হচ্ছে। কোনো হত্যাকাণ্ড ও হামলায় তিনি জড়িত কিনা তাও খতিয়ে দেখা হবে।
গত তিন বছরে পাঁচ শতাধিক আরসা সদস্যকে গ্রেফতার করেছে এপিবিএন-১৪। তবে গ্রেফতারের পর এসব সদস্যরা বিভিন্ন এনজিও সংস্থার আইনি সহায়তায় জামিন পায়। যদিও পুলিশ সদস্যরা এসব গ্রেফতারকৃতদের কথিত আরসা সদস্য বলেছেন।
কক্সবাজারের এপিবিএন-১৪ অধিনায়ক পুলিশ সুপার (এসপি) নাইমুল হক বলেন, ‘শাহ আলীকে গ্রেফতারের পর তার বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনে মামলা হয়েছে। আমরা তাকে উখিয়া থানায় সোপর্দ করেছি।’
তিনি বলেন, ‘নাশকতার পরিকল্পনায় লিপ্ত ছিলেন তিনি। আমরা তার কাছ থেকে আরসা প্রধানের কিছু তথ্য পেয়েছি।’









