সুনামগঞ্জে হাওর এলাকায় ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন ও উড়াল সড়ক প্রকল্পের আওতায় গৃহীত স্কীম সংক্রান্ত বিষয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রী এমএ মান্নান এমপি।

জেলা প্রশাসক মো: জাহাঙ্গীর হোসেনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক, সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নূরুল হুদা মুকুট।

এছাড়াও সভায় জনপ্রতিনিধি, সরকারী কর্মকর্তা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, আইনজীবী, বীর মুক্তিযোদ্ধা, প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। সুনামগঞ্জের হাওর এলাকায় উড়াল সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা। প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সুনামগঞ্জে নেয়া এটিই সবচেয়ে বড় প্রকল্প। উড়াল সড়ক প্রকল্পের মূল সড়ক শুরু হবে জামালগঞ্জের সাচনা থেকে, শেষ হবে বারহাট্টা উপজেলার গোপালপুরে। মূল সড়কের দৈর্ঘ্য হবে ২৮ কিলোমিটার, যার ১০ কিলোমিটার হবে উড়াল সড়ক। বিভিন্ন স্থানে পর্যটকদের জন্য সাতটি দোতলা টাওয়ার নির্মাণ করা হবে। ২০২৫ সালের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার আশা।

সুনামগঞ্জের সাথে নেত্রকোনা জেলার আধুনিক যোগাযোগ স্থাপন, দু’জেলার পাঁচটি উপজেলার অভ্যন্তরীণ সড়ক যোগাযোগের উন্নয়ন, হাওর এলাকার ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন, কৃষিপণ্য ও মৎস্য সম্পদের উৎপাদন বৃদ্ধি, দ্রততম সময় ও সহজে পরিবহন সুবিধা নিশ্চিত করা, হাওরকেন্দ্রিক পর্যটনের প্রসার এবং মানুষের জীবনমানের উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি প্রকল্প নেয়া হয়েছে। চলতি বছরে প্রকল্পের প্রাথমিক কাজ শুরু হবে।

সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ, তাহিরপুর, ধর্মপাশা ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা ও নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলাজুড়ে এ প্রকল্পের কাজ হবে। সাচনা থেকে ধর্মপাশা উপজেলার জয়শ্রী, ধর্মপাশা বাজার, ধর্মপাশার আলোকদিয়া হয়ে বারহাট্টা উপজেলার গোপালপুরে সড়কে গিয়ে যুক্ত হবে। এটিই প্রকল্পের মূল সড়ক, যার দৈর্ঘ্য হবে ২৮ কিলোমিটার। ২৮ কিলোমিটারের মধ্যে উড়ালসড়ক হবে ১০ দশমিক ৮১ কিলোমিটার। এ সড়কের বাকিটুকু হবে সব মৌসুমে যাতায়াতের সড়ক।

জানা গেছে, ২০১০ সালের ১০ নভেম্বর সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা সফরে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই সময় হাওর এলাকার যোগাযোগব্যবস্থার কথা তুলে ধরেন সুনামগঞ্জ-১ আসনের (তাহিরপুর, ধর্মপাশা ও জামালগঞ্জ) এমপি মোয়াজ্জেম হোসেন রতন। ওই প্রস্তাবের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আশ্বস্ত করেছিলেন প্রকল্প হাওরে উড়ালসড়ক নির্মাণের বিষয়ে আজ তা বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে।