নরসিংদীর পলাশে স্বামীর দবিকৃত যৌতুকের দেড় লাখ টাকা দিতে না পেরে শ্বশুরবাড়িতে গৃহবধূ শিলা আক্তার (২১) নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গত দুদিন ধরে ঘরে আটকে রেখে ওই গৃহবধূর স্বামী সিহাব মিয়াসহ শ্বশুর বাড়ির লোকজন এ নির্যাতন করেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে অচেতন অবস্থায় ওই গৃহবধূর পরিবারের লোকজন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপে উদ্ধার করে পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে ।

গৃহবধূ শিলা আক্তারের শরীরে নির্যাতনের একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক।

শিলা আক্তার উপজেলার মালিতা গ্রামের শের মোহাম্মদ ভূইয়ার ছেলে সিহাব মিয়ার স্ত্রী ও একই উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের ইছাখালি গ্রামের কৃষক ওসমান আলীর মেয়ে।

গৃহবধূ শিলার বাবা ওসমান আলী বলেন, বিয়ের পর থেকে কারণে অকারণে তার মেয়েকে মারধর করে স্বামী সিহাব মিয়া। সে তার কাছে প্রায়ই যৌতুকের টাকা চায়।

তিনি বলেন, দরিদ্র মানুষ যা পারি তাই দিয়ে তাকে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করি। চাহিদা মতো যৌতুকের টাকা না পেয়ে সিহাব মিয়া শিলার ওপর নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। বেশ কিছুদিন ধরে তাকে তালাক দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হবে বলে হুমকি দিতে থাকে ।

তিনি আরো বলেন, বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার দুদিন ধরে একই বিষয়ে স্বামী সিহাব মিয়াসহ শ্বশুর বাড়ির লোকজন তাকে মারপিট করে। তার হাত পা ও দেহের বিভিন্ন স্থানে জখম করে। মার খেয়ে শিলা অচেতন হয়ে যায়। পরে প্রতিবেশীর কাছ থেকে খবর পাই যৌতুকের টাকার জন্য দুদিন ধরে শিলার ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে। এরপর স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান কামরুল গাজীর সহযোগিতায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শিলাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে ভর্তি করা হয়। শিলাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করার সময় তার স্বামী সিহাব হুমকি দেয় টাকা দিতে না পারলে মেয়েকে যেনো আর না পাঠাই। এ নিয়ে কোনো মামলা করলেও ভালো হবে না বলে হুমকি দেয়।

পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইলিয়াছ জানান, গৃহবধূ নির্যাতনের কোনো অভিযোগ এখনো পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।