এক পলকে ছোটখাট একটা ময়ূরই মনে হবে। কিন্তু ময়ূর নয়, কবুতর। ডানা দুটো দিয়ে পেখম তুলে আছে! বিদেশী জাতের জেকবিন কবুতর এটি। দাম ৪০ হাজার টাকা!

কক্সবাজারের চকরিয়ায় প্রাণীসম্পদ প্রদর্শনীতে দেখা মিলেছে এই কবুতরের। প্রদর্শনীর মূল আকর্ষণই কবুতরটি।

বুধবার চকরিয়া উপজেলা প্রাণীসম্পদ অধিদফতরের উদ্যোগে প্রাণীসম্পদ ও ভেটেরিনারী হাসপাতাল মাঠে অনুষ্টিত হয় এ প্রদর্শনী। এ উপলক্ষ্যে সকাল ১১টায় অনুষ্টিত হয় আলোচনা সভা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেপি দেওয়ানের সভাপতিত্বে অনুষ্টিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন চকরিয়া-পেকুয়ার সংসদ জাফর আলম, বিশেষ অতিথি ছিলেন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুল করিম সাঈদী, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মকছুদুল হক চুট্টু, সাহারবিল ইউপি চেয়ারম্যান ও খামারি নবী চৌধুরী ও খামারি মোজাহের মেম্বার। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সুপন নন্দী।

সরেজমিনে দেখা যায়, ছোট-বড় ২১টি স্টল বসেছে প্রদর্শনীতে। এতে আকর্ষণীয় স্টল হলো বিদেশী জাতের জেকবিন কবুতর। রয়েছে আরো আট জাতের আকর্ষণীয় কবুতর। এক পিস জেকবিন কবুতরের দাম হাকিয়েছেন ৪০ হাজার টাকা!

চকরিয়া পৌরশহরের কাহারিয়া ঘোনা এলাকার যুবক রবিন জানান, তার নিজস্ব অর্থায়নে রয়েছে রবিন পিজন পার্ক। জেকবিন ছাড়াও কিং কবুতর, ম্যাডুনা কবুতর, ফ্যানডিল কবুতর, বোখরা কবুতর, লাহোর সিরাজী কবুতর।

প্রদর্শনীতে ঠাঁই পেয়েছে ১৬ লিটারের দুগ্ধ উপদানকারী মুরা (মহিষ)। ঠাঁই পেয়েছে তোতাপরী ছাগল। ওজন প্রায় এক মণ।

ছাগলের মালিক বদরখালী ইউনিয়নের ভেরোয়াখালী গ্রামের বাসিন্দা শেকান্দার জানান, আট মাস আগে ৩২ হাজার টাকা দিয়ে ছাগলটি কিনেছিলেন তিনি। বর্তমানে এটি ৭২ হাজার টাকা চান
ক্রেতারা।

রকমারি প্রাণী নিয়ে প্রদর্শনীতে এসেছেন উপজেলার পশ্চিম কৈয়ারবিলের মাদরাসাছাত্র আবদুল আহাদ। তার স্টলে দেখা গেছে বেইজিং হাস, কাদার মোরগ, খরগোস, টিয়া, কোয়েল, টার্কির ছানা ও বাজরিগড়।

তিনি জানান, সুস্বাদু মুরগী কাদারনাথ মানব দেহের জন্য বড় উপকারি, কাদারনাথের গোস্ত হৃদরোগ ও ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য খুব ভাল। এছাড়া তার গ্রামের বাড়ি ছোয়ালিয়াপাড়ায় ১৮ জাতের মুরগীর খামার রয়েছে। বেকারত্ব গোছাতেই ফার্মটি করেছেন তিনি।

বড় প্রজাতির গবাদি পশুর মধ্যে অন্যতম স্টল দখল করে নিয়েছে সাহারবিল ইউপির চেয়ারম্যান নবী হোছাইন চৌধুরীর খামারের রেড চেগাঁর (চাটগাঁইয়া লাল ষাড়)। ওজন আনুমানিক পাঁচ মণ হবে।

নবী হোছাইন চৌধুরী পেশায় একজন খামারি। চকরিয়া ডেইরি অ্যাসোসিয়সনের সাধারণ সম্পাদক তিনি। তার খামারে আরো রকমারি গরু রয়েছে। এসব ছাড়া প্রদর্শনীতে আছে গরুর খাটি দুধের ছানায় তৈরি হারবাংয়ের বিখ্যাত পাল মিষ্টি, ডুলহাজারা মিষ্টি সমাহার, রেনাটা কোম্পানীর প্রাণী স্বাস্থ্য ভাল রাখার প্রতিশেধক ভ্যাকসিন, ক্যালসিয়াম ও মাছের ওষুধসহ রয়েছে রোগ নিরোধের নির্দেশিকা।

প্রদর্শনীতে আরো এসেছে ইউরিয়া মোলাসেস স্ট্র, জার্মান ঘাস, সুদান ঘাস ও ভুট্টাসাইলেজসহ ১০ প্রকারের দানাদার গো-খাবার। প্রদর্শনীতে এসেছে প্রায় আট কেজি ওজনের ব্রয়লার মুরগী।

সেরা খামারি হিসেবে সম্মানা গ্রহণ করেছেন, বেলাল খলিফা, চকরিয়া দেশী মুরগীর খামারের মালিক আবদুল আহাদ।