পনের বছর পর কাপাসিয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শাহ রিয়াজুল হান্নানের নেতৃত্বে বিপুল নেতাকর্মী ও সমর্থকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচি সারা ফেলেছে। শুক্রবার বিকেলে উপজেলার ঘাগটিয়ায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য হান্নান শাহর কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো শেষে নবগঠিত ১১ ইউনিয়ন আহ্বায়ক কমিটির এই সভা কয়েক শত নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতিতে অনেকটা সমাবেশে রূপ নেয় ।
দলীয় সূত্র জানায়, কাপাসিয়ায় বিএনপি অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন অনেক বেশ ঐক্যবদ্ধ। কর্মী-সমর্থকরা আস্থা রাখছে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শাহ রিয়াজুল হান্নানের নেতৃত্বের ওপর। মহান বিজয় দিবসে উপজেলা সদরে মিছিল দলের মধ্যে নবজাগরণ ঘটিছে। পুনরুজ্জীবিত বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের সবপর্যায়ের নেতাকর্মী আর সমর্থকরা ঐক্যবদ্ধভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ন্যায্যদাবি আদায়ে যৌক্তিক আন্দোলন গড়ে তুলতে চায়। শুক্রবার উপজেলার ঘাগটিয়ায় হান্নান শাহর বাড়িতে বিপুল নেতাকর্মী ও সমর্থকের উপস্থিতিতে পরিচিতি সভা সমাবেশে রূপ নেয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী হান্নান শাহর সাথে দলের একটি অংশ দীর্ঘদিন যাবৎ বিরোধ করে আসছিল। হান্নান শাহর মৃত্যুর পর কাপাসিয়ায় রাজনীতিতে সক্রিয় হন ছোট ছেলে শাহ রিয়াজুল হান্নান। বিরোধকারীরা শাহ রিয়াজুল হান্নানের বিরোধিতা করতে শুরু করে। স্থানীয় বিভিন্ন জটিলতার কারণে কয়েক মাস আগে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় কাপাসিয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নির্বাচনে উপজেলা শাখায় শাহ রিয়াজুল হান্নান আহ্বায়ক এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার আজিজুর রহমান পেরা সদস্যসচিব নির্বাচিত হয়েছেন। উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন থেকে সুপারফাইভ পদ্ধতিতে নির্বাচিত ৫২ জন নেতা ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। এখন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ কাপাসিয়া বিএনপি রিয়াজের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ ও উজ্জীবিত।
দলীয় একাধিক নেতার সাথে কথা বলে জানা যায়, গাজীপুর জেলা বিএনপি কর্তৃক আয়োজিত ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের আলোচনা সভায় কাপাসিয়া উপজেলা বিএনপির অভিভাবক বিপুল ভোটে নির্বাচিত শাহ রিয়াজুল হান্নান রিয়াজ এবং উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কাপাসিয়া উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার আজিজুর রহমান পেরাসহ কাপাসিয়া উপজেলা বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন ইউনিটের কয়েক শ’ নেতাকর্মী নিয়ে সভায় যোগ দিয়েছিলেন।
দলের একাধিক সূত্র জানায়, দীর্ঘ দিন ধরে দলের যেসব সিনিয়র নেতা শাহ্ রিয়াজুল হান্নানের বিরোধিতা করে আসছিল এমন নেতাদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ পরায়ণ না হয়ে তিনি (রিয়াজ) তাদের সাথে দেখা করে দূরত্ব কমানোর চেষ্টা করছেন। ধৈর্যশীল নেতা হিসেবে কাপাসিয়া বিএনপি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের কাছে প্রমাণ দিয়েছেন তিনি। বাবা হান্নান শাহর মতোই সাহসী পুত্র শাহ্ রিয়াজুল হান্নান। দলের বিভিন্নপর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা স্বতঃস্ফূত সারা দিয়ে শাহ রিয়াজুল হান্নানের নেতৃত্বে দলীয় কার্যক্রম এগিয়ে নিতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়েছে নেতাকর্মীদের সাথে। এসব নিয়ে দলের নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন।
উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়ন বিএনপি নেতা এস এম জাকারিয়া নিজের ফেসবুক আইডিতে লিখেছেন, কাপাসিয়ায় বিএনপির নেতাকর্মীদের নবজাগরণ, মহান বিজয় দিবসে নতুন কিছু বিজয়ের অপেক্ষায় রাজপথে কাপাসিয়াবাসী। ভূঁইয়া রাসেল নিজের বেরিফাইড ফেসবুক পেইজে লিখেছেন, শাহ রিয়াজুল হান্নান যোগ্য নেতা আজকে আবার প্রমাণ করে দিলেন, স্যালুট প্রিয় নেতা। ১৫ বছরের কলঙ্কমুক্ত হলো কাপাসিয়া বিএনপি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, বিশাল মিছিলের পর কাপাসিয়ায় রাজনীতি নিয়ে নতুন করে ভাবনার সময় এসেছে। কাপাসিয়া সদর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্যসচিব সেলিম হোসেন আরজু বলেন, মামলা হামলা হত্যা নির্যাতন নিপীড়নের বিরুদ্ধে নেতাকর্মী ও সমর্থকরা আগের চেয়ে অনেকটা ঐক্যবদ্ধ। স্বেচ্ছাচারী ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নির্বাচনের আগের রাতে ভোট দিয়ে ক্ষমতা দখলে রাখার বিরুদ্ধে এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন জোরদার করা হবে।
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শাহ রিয়াজুল হান্নান সদ্যঘোষিত ১১ ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির বিষয়ে পরিচিতি সভায় বলেন, ইউনিয়ন আহ্বায়ক কমিটিতে স্থানীয় ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করা হয়েছে। দলের এই দুর্দিনে ভেদাভেদ ভুলে সবাই একসাথে কাজ করলে সংগঠন শক্তিশালী হবে। সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার আজিজুর রহমান পেরা, সদর ইউনিয়ন আহ্বায়ক আফজাল হোসেন, চাঁদপুর ইউনিয়ন সভাপতি নজরুল ইসলাম, দুর্গাপুর ইউনিয়ন সভাপতি সোলাইমান মোল্লাহ, কড়িহাতা ইউনিয়ন সভাপতি অ্যাডভোকেট লুৎফুর রহমানসহ কয়েক শ’ নেতাকর্মী।