মানিকগঞ্জে ঢাকা পশ্চিমাঞ্চলের ২১ উপজেলার সাড়ে ৩ হাজার বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৫ মার্চ) শহীদ মিরাজ-তপন স্টেডিয়ামে এই মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ঢাকা পশ্চিমাঞ্চলের (ঢাকা জেলা, ঢাকা মহানগর, মুন্সিগঞ্জ ও মানিকগঞ্জ) ২১টি উপজেলার ৩ হাজার ৫০০ মুক্তিযোদ্ধা সমাবেত হন।
আয়োজক কমিটির অন্যতম উদ্যেক্তা বীর মুক্তিযোদ্ধা, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম মহীউদ্দীন জানান, স্বাধীনতার ৫০ বছর ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে এ মিলনমেলার আয়োজন করা হয়েছে।
উপজেলার মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত করতে এ আয়োজন।
ঢাকা পশ্চিমাঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধাদের মিলনমেলার আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সদস্য বেনজীর আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের উদ্বোধক হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘যড়ষন্ত্রকারীরা বিদেশে বসে দেশের বিরুদ্ধে নানা ধরনের যড়ষন্ত্র করে যাচ্ছে। তারা দেশকে একটা অকার্যকর রাষ্ট্র বানাতে চায়। তারা প্রধানমন্ত্রীকে ১৯ বার হত্যা চেষ্টা করেছে কিন্তু তিনি বেঁচে আছেন। কারণ এ দেশকে একটি উন্নত দেশে পরিণত করার জন্যেই হয়তো তিনি বেঁচে আছেন। কোনো যড়ষন্ত্রকারীকেই আমরা বেছে থাকতে ক্ষমা করবো না। জয় বাংলা মুক্তিযোদ্ধাদের স্লোগান কিন্তু আজ তা জাতীয় স্লোগান। আমরা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে চাই।’
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ খ ম মোজাম্মেল হক বলেন, স্বাধীনতাবিরোধীরা এ দেশকে পাকিস্তানের মতো একটি ব্যর্থরাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে মুক্তিযোদ্ধারা এ সরকারকেই আবার ক্ষমতায় আনবে।
তিনি বেগম খালেদা জিয়া ও জিয়াউর রহমানের সমালোচনা করে বলেন, খুনি জিয়াউর রহমান অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধাকে বিনা বিচারে ফাঁসি দিয়ে হত্যা করেছেন এবং তাদের লাশও পরিবারের কাছে ফেরত দেয়া হয়নি।
মির্জা ফখরুল ইতিহাস বিকৃত করছেন অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া এ দেশের প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধা আর তারেক রহমানকে শিশু মুক্তিযোদ্ধা বলে যে প্রচার করা হচ্ছে তা মিথ্যা। মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাস খালেদা জিয়া ইফতেখার আলম জানজুয়ার হেফাজতে ছিলেন। অনেকে বিপদে পড়ে পাকিস্তানীদের কাছে আটকা ছিল আবার অনেকে ইচ্ছা করে তাদের কাছে ছিলেন। খালেদা জিয়া কোথায় কি করেছেন তা আমরা জানতে চাই।’
তিনি আরো বলেন, ‘জিয়াউর রহমান প্রথমে মুজিবনগর সরকারের হয়ে যুদ্ধ করতে রাজি না হওয়াতে তাকে বরখাস্ত করা হয়। পরে তিনি ক্ষমা চেয়ে সেক্টর কমান্ডার হয়েছেন।’
সমাবেশে তিনি জানান, এখন থেকে সকল মুক্তিযোদ্ধার কবর একই ডিজাইনে হবে। ২৬ মার্চ থেকে ১৭ এপ্রিলের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধাদের ডিজিটাল পরিচয়পত্র ও সনদ দেয়া হবে। মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নির্বাচন মুক্তিযোদ্ধাদের প্রত্যক্ষ ভোটে হবে।
বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মিলনমেলায় আরো বক্তব্য রাখেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপন, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী ড. মো: এনামুল রহমান, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান, পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এলামুল হক শামীম, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি শাহজাহান খান, ডা: মোস্তাফা জামান মহীউদ্দিন এমপি, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, নূর আলী এমপি, মাহাবুব আহম্মেদ বীর বিক্রম, সাবেক এমপি মফিজুল ইসলাম কামাল, সাবেক এমপি সুবেদ আলী টিপু, ঢাকা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মাহাবুবুর রহমান, মুন্সিগঞ্জ জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ লুৎফর রহমান, আ: রউফ, মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্যকে এ এম নাঈমুর রহমান দুর্জয়, মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মমতাজ বেগম, মানিকগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম মহিউদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম প্রমুখ।
ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হাবিবুর রহমান, মানিকগঞ্জ পৌর মেয়র মো: রমজান আলী, উপজেলা ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যানবৃন্দ, ঢাকা পশ্চিমাঞ্চলসহ জেলার আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মিলনমেলায় মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বীরদের আত্মার শান্তি কামনা করা হয়। পরে এক মনোঞ্জ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।









