৪০০ বছর ধরে দাঁড়িয়ে আছে বটগাছটি। শুধু বটগাছ বললে ভুল হবে বট আর পাকুড় মিলে দৃষ্টিনন্দন যুগলবন্দী এক রহস্য বৃক্ষ। করতোয়া খালের পাড়ে রাস্তার দুই পাশে ছড়িয়ে পড়েছে গাছটির বিশাল শাখা-প্রশাখা। শিকড়-বাকড়ে ছেয়ে গেছে পুরো এলাকা। বটগাছটি আজো রয়েছে তরতাজা সবুজ। যেন বার্ধক্যের ছাপ একটুও পড়েনি। আর সে কারণেই এ বটগাছকে ঘিরে রয়েছে নানা রহস্য। এ গাছের ডালপালা যেমন-চার দিকে বিছিয়ে গেছে তেমনি গল্প-কাহিনী আর কল্পগাথাও বছরের পর বছর ধরে ডালপালা গজিয়েছে।
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার চান্দাইকোনা ইউনিয়নের সরাইদহ চরপাড়া গ্রামের এক একর ২০ শতক জমি জুড়ে বিস্তৃত, কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে বটগাছটি। গাছের শাখা-প্রশাখা ডালপালা মাটির সাথে তৈরি করেছে এক আঙ্গিক সম্পর্ক। শীতল ছায়া আর পাখির কলকাকলি। সেইসাথে সবুজ শ্যামল এই বটগাছের নিচে যে কেউ এসে বসলে মনের সব ক্লান্তি দূর হয়ে যায়। দর্শনার্থী আর বৃক্ষপ্রেমিকরা অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এক নজর দেখতে প্রতিদিন বিভিন্ন স্থান থেকে ছুটে আসে এখানে।
সরাইদহ চরপাড়া গ্রামের বৃদ্ধ জাব্বার আলী বলেন, দাদার কাছে শুনেছি এ গাছের ডালপালা কাটা তো দূরের কথা এমনকি ভয়ে কেউ পাতাও ধরত না। যারা ডাল ভাঙত তাদের অনেকের মুখ দিয়ে রক্ত বের হতো এবং ডায়রিয়া, কলেরা হয়ে আনেকই মারা যেত। এমনকি বটগাছের পাতা বা ডাল জ্বালানি হিসেবে কেউ যদি ব্যবহার করত তাহলে তাদের গায়ে জ্বর আসত। তাই এখন কেউ গাছের ডালপালা ভাঙে না।
বগুড়া থেকে আসা নিজাম উদ্দিন বলেন, অনেক কথা শুনেছি। কিন্তু আজ এখানে এসে যা দেখলাম তা শোনার চেয়ে অনেক বেশি। বটগাছটিকে ঘিরে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা করে পদক্ষেপ নিলে পর্যটন স্পট হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠবে। সরাইদহ চরপাড়া গ্রামের বয়োবৃদ্ধ বরাত আলী সরকার বলেন, আমার দাদা ৯৫ বছর বয়সে মারা গেছেন। তিনি বলেছিলেন গাছটি জন্মের পর থেকে এভাবেই তারা দেখেছেন। ওই সময় বটতলায় অনেক সাধু-সন্ন্যাসী ধ্যানে মগ্ন হতেন। এখন সাধু-সন্ন্যাসীদের দেখা না মিললেও হিন্দু-মুসলমান উভয় ধর্মের মানুষই গাছটি দেখতে আসেন। অনেকে মানত পূরণ করার জন্য আসেন। প্রতি বছর জ্যৈষ্ঠ মাসের তৃতীয় মঙ্গলবার বটগাছের নিচে মেলা বসে। এ মেলাতে ঘোড় দৌড়, লাঠিবাড়ি, নাগরদোলা ও ছুরিখেলাসহ বিভিন্ন খেলায় মেতে ওঠে এলাকার মানুষ। আশা করছি, আগামী জ্যৈষ্ঠ মাসে মেলা হবে।
চান্দাইকোনা ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল হান্নান খান বলেন, গাছের সঠিক বয়স বলতে পারব না। তবে বাবা দাদাদের মুখে অনেক গল্প শুনেছি। আনুমানিক গাছটির বয়স ৪০০ বছর। বয়সের সাথে গাছের ঢালপালা চার পাশ ছেয়ে গেছে। এই বটগাছ আমাদের এলাকার ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। সময়ের বিবর্তনে বটগাছের ঐতিহ্য অনেকটা হারিয়ে গেলেও রায়গঞ্জের সরাইদহের চরপাড়া গ্রামের এই ঐতিহ্য রয়েছে।