নরসিংদীর ঘোড়াশালে চলন্ত ট্রেনের ধাক্কায় প্রাইভেটকারের এক যাত্রী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন চালকসহ আরো পাঁচজন।
শনিবার রাত দেড়টার দিকে পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল চামড়াবো এলাকায় রেলওয়ে স্টেশনের রেল ক্রসিং এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
নিহতের নাম মো. ইউসুফ আলী (৩০)। তিনি শিবপুরের দত্তেরগাও এলাকার বাসিন্দা।
আহত বাকি পাঁচজন হলেন দত্তেরগাও এলাকার মৃত আবু হানিফার ছেলে মোকাররকম মিয়া (২৬), একই এলাকার প্রবাস ফেরত মাহবুব মিয়া, মাসুম মিয়ার ছেলে মো. রেদুয়ান (০৯), মো. আবদুল্লাহ (১২) ও পলাশের চরসিন্দুর এলাকার মৃত আনিস মিয়ার ছেলে আল আমিন মিয়া (৪৩)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে ঢাকা হতে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী তূর্না নিশিতা এক্সপ্রেস ঘোড়াশাল রেলওয়ে স্টেশন অতিক্রম করছিলো। একই সময় স্টেশনের পূর্ব পাশের ক্রসিং দিয়া রাস্তা পার হচ্ছিলো একটি প্রাইভেটকার। ট্রেনটি দ্রুতবেগে এসে প্রাইভেটকারটিকে ধাক্কা দেয় এবং এটি রেল লাইনের পাশে ছিটকে পড়ে। ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হন এবং পাঁচজন গুরুতর আহত হন। পরে রেলওয়ে স্টেশন কতৃপক্ষ স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং রেলওয়ে পুলিশ গিয়ে নিহত ওই ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে।
ঘটনার প্রতক্ষ্যদর্শী কয়েকজন পচথারী জানান, ঘটনার সময় লেভেল ক্রসিংয়ে কেউ দায়িত্বে ছিল না। যার কারণে প্রাইভেটকারটি রেললাইনে উঠে পড়ে এবং এই দুর্ঘটনা ঘটে।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অরক্ষিত লেভেল ক্রসিংটিতে দুঘটনারোধে ঘোড়াশাল পৌরসভা থেকে অস্থায়ীভাবে রতন ও কবির হোসেন নামে দুই ব্যক্তিকে নিয়োগ দেয়া হয়। দুর্ঘটনার সময় রতন গেট কিপারের দায়িত্বে থাকার কথা, কিন্তু তিনি সেই মুহর্তে সেখানে অবস্থান না করায় দুর্ঘটনাটি ঘটে।
ঘোড়াশাল পৌর মেয়র আল-মুজাহিদ হোসেন তুষার বলেন, গেইট কিপারের দায়িত্ব অবহেলার বিষয়টি শুনেছি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
নরসিংদী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইমায়েদুল জাহেদী জানান, ওই প্রাইভেটকারে থাকা ছয়জনের একজন বিদেশগামী ছিলেন, যিনি আহত হয়েছেন। শিবপুরের নিজ বাড়ি হতে সবাই বিদেশগামী ওই ব্যাক্তিকে নিয়ে ঘোড়াশাল রেলক্রসিং হয়ে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দিকে যাচ্ছিলো প্রাইভেটকারে করে। দুর্ঘটনায় পাঁচজন আহত ও একজন নিহত হয়েছেন। নিহতের লাশ নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। আর ওই রেলক্রসিংটি অরক্ষিত ছিলো।









